ফেনীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে উৎসবমুখর পরিবেশে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডের মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জহির রায়হান হল মাঠে এসে শেষ হয়। এবারের মেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

র‍্যালি শেষে জহির রায়হান মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা।

অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (আমির) ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরা হক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গাছ শুধু আমাদের পরিবেশই রক্ষা করে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ রোপণ করতে হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ যখন সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, তখন তা পুরো দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে। 

আলোচনা সভায় অন্য বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে-তার একটি হচ্ছে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং অপরটি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে এই কার্যক্রম চলছে। বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চারার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য গাছের পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত