চুয়াত্তরে রাইসুল ইসলাম আসাদ

‘আমার জন্মদিনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই’

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাইসুল ইসলাম আসাদ আজ পা রাখলের জীবনের ৭৩তম বছরে। ১৯৫৩ সালের এই দিনে (১৫ জুলাই) রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনে জন্ম তার। শহুরে আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছেন তিনি।

 তবে জন্মদিনে অন্যান্য তারকাদের উচ্ছ্বাস-কলরব থাকলেও আসাদের কাছে দিনটি একেবারেই অন্যরকম। তিনি জন্মদিনকে উৎসবের দিন মনে করেন না, বরং মনে করেন বাবা-মাকে স্মরণ করার দিন। এ কারণেই জন্মদিন প্রসঙ্গে তার মুখে শোনা যায় এক গভীর আবেগমাখা স্বীকারোক্তি। বর্ষীয়ান এই তারকা বলেন,‘জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসার পেছনে কিন্তু আমার কোনো হাত নাই। যাদের জন্য আমার পৃথিবীতে আসা, তারা হলেন আমার বাবা-মা। যারা আমাকে জন্ম দিয়েছেন তারা দু’জনই এখন পৃথিবীতে নাই। তাদেরকে ছাড়া আবার জন্মদিন হয় নাকি!’ 

তিনি জানান, মানুষ আসলে বয়স বাড়ায় না বরং প্রতিটি জন্মদিন তাকে মৃত্যুর আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে যায়। তাই এই দিনটিকে তিনি কখনো আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে দেখেননি। বরাবরের মতো এবারও জন্মদিন কাটছে নিজের বাসাতেই, খুবই সাধারণভাবে। সবার কাছে শুধু একটি প্রার্থনাই তার- সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। 

দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হন রা্ইসুল ইসলাম আসাদ। এর আগে ৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে অংশ নেন। স্বাধীনতার দ্বিতীয় বছরে অথাৎ ১৯৭৩ সালে তিনি  চলচ্চিত্রে নাম লেখান।  খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। এ ছবিতে তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁকে আর রুপালী পর্দায় দেখা যায়নি। ১৯৮০ সালে সালাহউদ্দিন জাকীর ‘ঘুড্ডি’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় প্রর্তাবর্তন করেন। 

জাকীর মৃত্যুর পরে এক সাক্ষাৎকারে আসদ বলেছিলেন, ‘আমার তো অভিনয়ই করার কথা ছিল না। সবকিছু সম্ভব হয়েছে জাকী ভাইয়ের জন্য। তিনি আমাকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিয়েছেন। তার জন্যই আমাকে অভিনয় করতে হয়েছে। সেজন্য মাঝে মাঝে ভাবি, জাকী ভাই না থাকলে আমার হয়ত অভিনয়ই করা হতো না।’ 

‘ঘুড্ডি’ সিনেমায় আসাদের বিপরীতে ছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা। ছবিটি সুপারহিট হলে অভিনেতাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮১ সালে সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, ১৯৮৪ সালে কাজল আরেফিনের ‘সুরুজ মিঞা’-সহ অর্ধ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৯৩), ‘অন্য জীবন’ (১৯৯৫), ‘দুখাই’ (১৯৯৭) ও ‘লালসালু’ (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। 

২০০৬ সালে ‘ঘানি’ ও ২০১৩ সালে ‘মৃত্তিকা মায়া’ সিনেমার জন্য পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। এছাড়া ৪৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। সবশেষ শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে অভিনয়  দেখা যায় তাকে।