সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুরপাড় আজিজের মোড় এলাকায় নেশার টাকার জন্য এক সন্তানের জননী গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়ি ও দুই ননদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী মেরাজকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত সুমি খাতুন (২০) উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কাংলাকান্দি গ্রামের নুর মোহাম্মদের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে শাহজাদপুর পৌর এলাকার পুকুরপাড়ের কাশেমের ছেলে মেরাজের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত মেরাজ বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। প্রায়ই নেশার টাকার জন্য সুমির কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলেই তাকে মারধর করতেন। এর আগেও টাকার জন্য সুমিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মেরাজ সুমিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে তার মুখে বিষ ঢেলে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত মেরাজ পালিয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও নেশার টাকার দাবির জেরেই সুমিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান এবং শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়ি ও দুই ননদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পলাতক স্বামী মেরাজকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।