সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি ব্যাটারির অভাবে দুবছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে লোডশেডিং হলেই অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচার কক্ষ), জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে অস্ত্রোপচারসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে দেখা গেছে, লোডশেডিংয়ে অপারেশনসহ জরুরি সব কাজ বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রসূতি সেবা এবং অন্য জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় দুবছর ধরে হাসপাতালের জেনারেটর ব্যাটারির অভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে। একজোড়া ব্যাটারি হলেই পুনরায় জেনারেটরটি চালু করা যেতে পারে। তিনি জানান, ৫০ হাজার টাকা হলেই একজোড়া ব্যটারি কেনা যাবে।
হাসপাতালের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটরটি ২০২০ সালে চালু করা হয়। এর আগে দীর্ঘ দেড়যুগেরও বেশি সময় হাসপাতালের বারান্দায় জেনারেটরটি বাক্সবন্দি ছিল। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উদ্যোগের অভাবে এ সময়ের মধ্যে সেটি স্থাপন কিংবা চালুর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলেও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন রোগী ও চিকিৎসাকর্মীরা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জেনারেটরটি চালু করা হলে লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালের জরুরি সেবাগুলো সচল রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে বর্তমানে সামান্য যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সেটি আবারও অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসাসেবায় নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা বলেন, অনেক দিন ধরেই জেনারেটরটি অচল অবস্থায় রয়েছে। মূলত প্রয়োজনীয় ব্যাটারির অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে লোডশেডিং হলেই অপারেশনসহ হাসপাতালের বিভিন্ন জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।