ব্যাংকিং সেবায় নতুন করে ফি আরোপ ও বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ না বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনীতি যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, এমন সময়ে অহেতুক কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ বা প্রস্তাব হবে আত্মঘাতী।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে দেওয়া এক জরুরি পত্রে তিনি এ আহ্বান জানান।
সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ-এবিবি কর্তৃক ব্যাংকিং সেবার ১৪ খাতে নতুন ফি আরোপ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিপরীতে চেম্বার সভাপতি এ পত্র দেন।
তিনি বলেন, এবিবি কর্তৃক এলসি আবেদনে ১০০ টাকা, বৈদেশিক এলসি প্রসেসিংয়ে ২০ ডলার, স্থানীয় এলসি প্রসেসিংয়ে এক হাজার টাকা, এলসি সত্যায়নে এক হাজার টাকা, সক্রিয় এলসি বাতিলে ৫০০ টাকা, ব্যালেন্স কনফারমেশনে ৩০০ টাকা, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি বাড়িয়ে ২ শতাংশ, পুনঃতফসিলে ১ শতাংশ এবং অগ্রিম ঋণ নিষ্পত্তি ফি বাড়িয়ে ২ শতাংশ, বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় ১ শতাংশ, করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্স ডিল স্ট্রাকচারিংয়ের ওপর ১ শতাংশ চার্জ ও অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ ১ শতাংশ ফি আরোপের যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে স্প্রেড কমানোর সুফল তো আসবেই না; বরং নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, এতে করে সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা আরও হ্রাস পাবে ও ভোক্তা পর্যায়েও মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
চেম্বার সভাপতি মাসে নগদ টাকা উত্তোলনে ৪র্থ থেকে ১০ম বার পর্যন্ত ১০০ টাকা এবং পরে ৩০০ টাকা করে চার্জ আরোপ, বিনা চার্জের সঞ্চয়ী গড় স্থিতির সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকার বেশি স্থিতিতে ৩০০ টাকা ফি কাটার প্রদত্ত প্রস্তাবও কার্যকর না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরকে অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় পরিচালন, প্রযুক্তি ও মূল্যস্ফীতির অজুহাতে প্রতি বছর ১০ শতাংশ পর্যন্ত এ ধরনের চার্জ কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ আমানতকারীদের সঞ্চয়ের প্রবণতা ধ্বংস হবে এবং সাধারণ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও আগ্রহ দুই-ই হারাবে। যাতে করে সরকারের ক্যাশলেস ও ডিজিটাল ইকোনমি গড়ার উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়বে।
চেম্বার সভাপতি তার আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনয়নে ও কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাসকল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা; একক গ্রাহক ও বৃহৎ ঋণ এক্সপোজার সংক্রান্ত নীতিমালায় সাময়িক শিথিলতা; এলসি ব্যতীত সরাসরি আমদানি এবং সুদের ‘স্প্রেড’-এর সর্বোচ্চ সীমা ৪ শতাংশ নির্ধারণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সমাজের কাছে ইতিমধ্যে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। সরকারের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী, যখন দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি নতুন করে গতিশীলতা অর্জনের পথে সেই সময়ে নতুন ফি আরোপ ও চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, যা একই সঙ্গে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত সিদ্ধান্তকেও ব্যাহত করবে।