টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ম্যাচ আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। চার ছক্কার অবিশ্বাস্য বৃষ্টি, একই ম্যাচে তিন তিনটে সেঞ্চুরি আর বিশ্ব রেকর্ডের এক অবিশ্বাস্য রান তাড়া! মেজর লিগ ক্রিকেটের এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এমআই নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ফ্রিডম। আর এই মহাকাব্যিক ম্যাচেই দেখা গেল এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। রেকর্ড় এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হেরেই মাঠ ছাড়তে হলো সাকিব আল হাসানদের দল এমআই নিউ ইয়র্ককে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকল্যান্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রান পাহাড় গড়েছিল এমআই নিউ ইয়র্ক। নিকোলাস পুরানের মাত্র ৩১ বলের টর্নেডো সেঞ্চুরি (যা এমএলসি ইতিহাসের দ্রুততম) এবং অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডের ২৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ২৬৬ রানের সুবিশাল পুঁজি সংগ্রহ করে নিউ ইয়র্ক। পোলার্ড এই ম্যাচেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের ১০০০তম ছক্কা মারার অনন্য কীর্তি গড়েন।
২৬৭ রানের হিমালয়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল ওয়াশিংটন ফ্রিডম। এমআই নিউ ইয়র্কের হয়ে নতুন বলে আক্রমণ শুরু করেন ব্যাট হাতে মাত্র ৪ রান করা সাকিব। নিজের প্রথম ৩ ওভারের মধ্যেই মাত্র ১০ রানে ওয়াশিংটনের ২টি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলেন তিনি। ম্যাচে সাকিবের বোলিং ফিগার ছিল ২-৩৪।
সাকিবের শুরুর জোড়া ধাক্কা সামলে এরপর যা হলো, তা রূপকথাকেও হার মানায়। ওয়াশিংটনের আন্দ্রিজ গাউস এবং স্টিভেন স্মিথ মিলে নিউ ইয়র্কের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন মাত্র ৮৯ বলে যোগ করেন ২৪১ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। গাউস ও স্মিথ দুজনেই মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন। গাউস খেলেন ১৩২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস এবং স্মিথ ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচে রেকর্ড ৫১টি ছক্কা হাঁকান দুই দলের ব্যাটাররা। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম একই ম্যাচে ৩টি সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটলো। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ফ্রিডম ৪ উইকেট হারিয়ে, ৮ বল বাকি থাকতেই ২৬৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেই এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার বিশ্ব রেকর্ড।
সাকিব আল হাসান বল হাতে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলকে ব্রেক-থ্রু এনে দিলেও, ফিল্ডারদের একের পর এক ক্যাচ মিস এবং ওয়াশিংটন ব্যাটারদের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের কাছে শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এমআই নিউ ইয়র্ককে। ৬ উইকেটের এই মহাজয়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডম কোয়ালিফায়ার ২-এ জায়গা করে নিয়েছে, আর সাকিবের দলের বিদায় ঘটলো টুর্নামেন্ট থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
এমআই নিউ ইয়র্ক: ২৬৬/৯ (২০ ওভার; পুরান ১০৬, পোলার্ড ৬৪; রবীন্দ্র ৪/২৯)
ওয়াশিংটন ফ্রিডম: ২৭০/৪ (১৮.৪ ওভার; গাউস ১৩২, স্মিথ ১১০*; সাকিব ২/৩৪)
ফল: ওয়াশিংটন ফ্রিডম ৬ উইকেটে জয়ী।