গভীর শ্রদ্ধায় সারা দেশে জুলাই শহীদ দিবস পালিত

গণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, আলোচনাসভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হলো ‘জুলাই শহীদ দিবস’। এদিন সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ নিহত হন পুলিশের গুলিতে। তার মৃত্যুতে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। গত বছর থেকে ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো দিবসটি পালিত হয়।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন ভোরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শহীদদের স্মরণে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ ও কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ শহীদদের জন্য প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়।

গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদ স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভোরে রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই শহীদ গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রায়েরবাজারে আরও শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগারে বিশেষ প্রদর্শনী ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহামুদুন নবী চৌধুরী পলাশসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এ ছাড়া শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। পরে তিনি আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমীন, ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের টিকিটে নির্বাচন করা এস এম খালিদুজ্জামান ও শিবিরের সভাপতি নুরে ইসলাম সাদ্দামও আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গোপালগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তায় জুলাই শহীদ দিবস পালন : গতকাল গোপালগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। গত বছর এই দিনে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তি ঘিরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। গতকাল সকালে নির্মাণাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে ফতুল্লার হাজীগঞ্জে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, ডিসি মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াত কেন্দ্রীয় কার্য পরিষদের সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা হয়।

ঝালকাঠিতে সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। এতে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মামুন আল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না, জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আক্কাস সিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে টাঙ্গাইল জেলা সদরের হ্যালিপ্যাড মাঠসংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকার শহীদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

নাটোরে সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আবুল হায়াত, সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম, শহীদ মিকদাদ হোসেন খান আকিবের পিতা অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন খান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আব্দুর সামাদ শিশির প্রমুখ। এর আগে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহীতে সকালে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বজলুর রশীদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার খায়রুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু ও এনসিপি রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশের আলী।

বেনাপোলে সকালে শার্শা ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া গ্রামে শহীদ আব্দুল্লার বাড়িতে যান এবং তার জিয়ারত ও দোয়া করেন।

মাগুরায় দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর পাড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমদ, শহীদ পরিবারের সদস্য প্রমুখ। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় নোমানি ময়দানে জেলা অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়।

কুমিল্লায় সকালে নগরীর টাউন হল মাঠে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডিসি রোজী আক্তার। এ ছাড়া পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা জেলা ও মহানগর বিএনপি, জাতীয় নাগরিক কমিটির জেলা ও মহানগর শাখা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন

নীলফামারীতে সকালে জেলা শহরের বিডি হলসংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পু®পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো, ফরহাদ হোসেন খান প্রমুখ।

শহীদ দিবসের ব্যানার খুলে নিল ছাত্রদল : জুলাই শহীদ দিবসে ফেনী সরকারি কলেজের স্মরণসভার ব্যানারে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের ছবি না থাকায় তা খুলে নেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তোপের মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ ওয়াসিমের ছবি সংযুক্ত করে নতুন ব্যানার টানিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে। এদিকে ব্যানার সংশোধনের সিদ্ধান্তে ছাত্রশিবির অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। বৃহস্পতিবার কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আহম্মদ অডিটরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ এনামুল হক খোন্দকার প্রধান অতিথি ছিলেন।

জুলাই অভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রেরণা : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার মূল প্রেরণা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের চেতনাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। গতকাল ভোরে রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই শহীদ গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আহমেদ আযম খান। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামকে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের বুলেটে যখন তাদের বুক ঝাঁজরা করে দেওয়া হয়েছিল, তারপর থেকেই এ আন্দোলন এক সর্বাত্মক ও ব্যাপক রূপলাভ করে। ফলে গত ৫ আগস্ট পুরো জাতির অংশগ্রহণে আমরা চূড়ান্ত সফলতা লাভ করি এবং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় ভর করে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে রংপুরের শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রায় ১৫ বছরের দুঃশাসনের পর জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি জুলাই শহীদ দিবসে তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, তাদের ত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার দিয়েছে, আমাদের মুক্তি দিয়েছে। আমরা স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।