পাসপোর্ট জট নিরসনে নতুন উদ্যোগ, বিশেষ কনস্যুলার সেবার ঘোষণা প্যারিস দূতাবাসের

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস। এর মধ্যে নির্ধারিত তিনটি শনিবার বিশেষ পাসপোর্ট সেবা, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নতুন স্লট প্রকাশ এবং জরুরি আবেদনকারীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসে আয়োজিত কনস্যুলার সেবা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা এসব উদ্যোগের ঘোষণা দেন। সভায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির আলোকে দূতাবাস কনস্যুলার সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছে। বাস্তবে এই ব্যবস্থা সেবাগ্রহীতাদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। তিনি প্রবাসীদের গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসীরা পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা আরও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পরামর্শ তুলে ধরেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রদূত বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্রান্স সরকারের বৈধতা-সংক্রান্ত আবেদনের জন্য যেসব বাংলাদেশি ইতোমধ্যে ফরাসি প্রেফেকচুরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব দিনে বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সারাদিন পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হবে।

এছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য নতুন স্লট উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিদিনের মোট স্লটের অর্ধেক অনলাইন আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং বাকি অর্ধেক ১৫ মে-এর আগে ইমেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসী প্রতিনিধিরা দূতাবাসের নতুন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মতবিনিময় সভায় দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।