বাস্তিল দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজে মুখর ফ্রান্স, গণতন্ত্র ও ঐক্যের বার্তা 

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

ফরাসি বিপ্লবের ঐতিহাসিক স্মৃতি ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় দিবস বা বাস্তিল দিবস উদযাপন করেছে ফ্রান্স। ১৪ জুলাই রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সামরিক কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাগরিক সমাবেশ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে নতুন করে তুলে ধরা হয়।

জাতীয় দিবসের কেন্দ্রীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসের ঐতিহাসিক শঁজেলিজে অ্যাভিনিউতে। সেখানে ফ্রান্সের স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী, জঁদারমেরি, দমকল বাহিনী এবং বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নেন। আকাশে ফরাসি বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিক দল পাত্রুই দ্য ফ্রঁস নীল, সাদা ও লাল ধোঁয়ার রেখায় জাতীয় পতাকার রঙ ফুটিয়ে তোলে। কুচকাওয়াজে আধুনিক যুদ্ধবিমান, সামরিক হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়। এ বছরের জাতীয় দিবসের আয়োজনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর সদস্য দেশগুলোর প্রায় ৫০০ সেনাসদস্য ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে কুচকাওয়াজে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তাঁর বক্তব্যে ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শুধু রাজধানী প্যারিস নয়, মার্সেই, লিঁও, বোর্দো, তুলুজ, লিল, নিস ও স্ট্রসবুর্গসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দিনব্যাপী কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাগরিক সমাবেশ এবং স্থানীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় দিবসের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

তবে ২০১৬ সালের নিস সন্ত্রাসী হামলার দশম বার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বছর আইফেল টাওয়ার এলাকার ঐতিহ্যবাহী আতশবাজির প্রদর্শনী ১৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৩ জুলাই রাতে অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের স্মরণে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়। জাতীয় দিবসকে ঘিরে প্যারিসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রেলস্টেশন, পর্যটন এলাকা এবং অনুষ্ঠানস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, জঁদারমেরি ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি জোরদার করা হয়।

১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের জনগণ বাস্তিল দুর্গ দখলের মাধ্যমে যে বিপ্লবের সূচনা করেছিল, তা পরবর্তীকালে শুধু ফ্রান্স নয়, বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসেও এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ আজও ফরাসি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় মূলমন্ত্র হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৮৮০ সালে ১৪ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাস্তিল দুর্গ দখলের ২৩৭ বছর পরও দিনটি ফরাসি জনগণের কাছে কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ নয়, বরং গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, জাতীয় ঐক্য এবং প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত