দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যার কারণ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান চলছে। কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বন্যার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতও এ বন্যার অন্যতম কারণ। সব বিষয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ডলু খালের ভাঙন পরিদর্শন ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৭ লাখ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, এখন শুধু ত্রাণ নয়, পুনর্বাসন কার্যক্রমও একসঙ্গে চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে এবং সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন।