জুলাই ঐক্য প্রথম ভঙ্গ করেছে বিএনপি : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, জুলাই ঐক্য প্রথম ভঙ্গ করেছে বিএনপি, জুলাইকে প্রথম বিব্রত করেছে বিএনপি, জুলাই এর সাথে আবু সাঈদের রক্তের সাথে প্রথম বেঈমানি করেছে বিএনপি। বিএনপি যদি ঠিক হয় তাহলে আবার বাংলাদেশে জুলাইয়ের ঐক্য হবে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য হবে।

গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ কমসংস্থান বৃদ্ধি ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবীতে দেশজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি হাকিমপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে হিলি বাজারের খাদ্যগুদাম মোড়ে এক পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। 

এসময় তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের যেভাবে লড়াই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কারণে, সেই একই ব্যবস্থা যদি বিএনপির মধ্যে থাকে, তাদের সাথেও আগামীতে শক্ত লড়াই হবে আমাদের। এই লড়াইটা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়, এই লড়াইটা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে নয়, এই লড়াইটা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, এই লড়াইটা হলো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই। এই লড়াই হলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই। এই লড়াই হলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।

তিনি বলেন, আমরা চিন্তা করলাম যেহেতু জিয়াউর রহমানের ব্যানার আছে, খালেদা জিয়ার ব্যানার আছে, তাহলে তা ভারতের বিরুদ্ধে যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা হতাশ হলাম ওরা ইলেকশনে ভারতের সাথে হাত মিলাইলো, আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলাইলো। ভারত সীমান্তে মানুষ হত্যা করতেছে, বাংলাদেশে অনেক লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে, এ বিষয়ে সংসদে আমরা কথা বলতে চাই। বিএনপি সেটা সংসদ থেকে খারিজ করল। 

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু ভারত যদি কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ করে বারবার, যে তারা আমাদের প্রতিবেশী হতে পারে কিন্তু তারা দাদাগিরি করতে চায়, আধিপত্যবাদ বহাল করতে চায়, তাহলে আমরা ভারতকে বলতে চাই এই ধরণের প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র মনে করি না। যারা একজন গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেয়, যারা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, যারা আমার দেশকে ন্যায্য পানির হিস্যা বুজে দেয় না, যারা খরার সময় পানি আটকে রাখে, বর্ষার সময় পানি ছেড়ে দিয়ে আমার লক্ষ মানুষকে হত্যার কর্মযজ্ঞ করে, তারা কোনদিন আমাদের বন্ধু হতে পারে না। তারা কোনদিন আমাদের প্রতিবেশী হতে পারে না। আগামীর বাংলাদেশে একটা ফেলানী হত্যা হলে, একটা সীমান্ত হত্যা হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিজিবির ভাইদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্ট যখন কোটি ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলো, সেদিন যদি শেখ হাসিনা পালিয়ে না যেত বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ শেখ হাসিনার এমন অবস্থা করত, তার একটা হাড়কেও খুঁজে পাওয়া যেত না। একটা মাংসের টুকরাও খুঁজে পাওয়া যেত না। বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে যেই জুলুম করেছে, বিএনপি, জামায়াত কোনো কিছু দেখে নাই। অপরাধ, নিরপরাধী কিচ্ছু দেখে নাই। মানুষকে গুম করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে, খুন করেছে, হত্যা করেছে। নির্লজ্জভাবে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। একটা খুনিকে, একটা গণহত্যাকারীকে যে আশ্রয় দেয়, সেই তো তার সবচেয়ে বড় বন্ধু সেখানেই তো তার শেকড়টা। ওরা জালিম ছিল, এই জালিমদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্ন ভাবে উৎপাতের চেষ্টা করছে, আমরা যেন তাদের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকি। যারা জালিমকে প্রশ্রয় দিবে, আশ্রয় দিবে, মনে রাখবেন তারাও তাদের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। যারা নিরপরাধ, তাদেরকে নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু যারা অপরাধী, তাদেরকে যদি কেউ প্রশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়ে যাব।

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা সকলে প্রত্যাশা করেছিলাম যে একটা নতুন বাংলাদেশ আমরা পাব। যে বাংলাদেশে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। যে বাংলাদেশে মানুষেরা চাকরি পাবে কোনো ঘুষ ছাড়া, যে বাংলাদেশে মেধার মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন রাষ্ট্রটা গড়ার জন্য ভোট দিয়েছিল, সেই ভোটটাকেই এখন আর কার্যকর করা হচ্ছে না। আমরা দুইটা ভোট দিয়েছি। সরকার গঠনের ভোট, গণভোট। তারা সরকার গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু গণভোট আর মানে না। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষেরা তারা এখন আশাহত হয়ে পড়েছে। যারা ভোটের আগে বলে, 'গণভোটে হ্যাঁ দিন', ভোটের পরে গণভোট আর মানে না, তাদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখলাম বাজেট ঘোষণার আগেই দুবার বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো। এর মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে একটা নাভিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম যদি বাড়ে, তাহলে সকল জিনিসের দাম বেড়ে যায়, পরিবহনের দাম বেড়ে যায় সবকিছুতে মানুষের একটা নাভিশ্বাস তৈরি হয়। এই কারণে আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাব, যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেটাকে সহনীয় মাত্রায়, জনগণের উপযোগী করে, সেগুলোকে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা.আব্দুল আহাদ, উপজেলা জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলামসহ এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ১১দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।