ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম। তাঁর এই বিদায়ের পর আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়রপ্রার্থী হিসেবে তাঁর অংশ নেওয়ার আলোচনা এখন জোরালো হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত মে মাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের এক সম্মেলনে সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ১৯৯০ সালের ডাকসু ভিপি আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে সাদিক কায়েমের বর্তমান অবস্থার মিল খুঁজছেন। ডাকসুর ভিপি থাকাকালেই ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান। পরে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। একইভাবে ডাকসুর ভিপি থাকাকালে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে যাচ্ছেন সাদিক কায়েম-এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এ বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক অনুকূলে এসেছে। সহিংসতার মাত্রাও কমেছে। প্রশাসনের অসহযোগিতা সত্ত্বেও আমরা ডাকসুর মেয়াদ থাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নগর পরিচালনায় কাজে লাগাতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, ডাকসুতে যে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, সেটি নগর ব্যবস্থাপনায়ও কাজে লাগানো সম্ভব বলে আমি মনে করি। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।