স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসিকে জামায়াতের চিঠি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই বিধান যুক্ত করা হলে আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এ বিধান সংযোজনের প্রস্তাব দেয় জামায়াত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করলে দলটি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

সরকার আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়ায়, নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না-তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশনও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জামায়াতের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিয়োজিত প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরাসরি নারী সদস্য নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশ করেছে দলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত