অগ্ন্যাশয় পাথর, দেশেই আধুনিক চিকিৎসা

যে কারও অগ্ন্যাশয়ে (Pancreas) পাথর হতে পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। এগুলোকে প্যানক্রিয়াটিক স্টোন বা প্যানক্রিয়াটোলিথ বলা হয়। যা মূলত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দিয়ে তৈরি। এই পাথরগুলো অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম প্রবাহে বাধা দেয় এবং প্রচ- পেটে ব্যথা, বমি ও হজমের সমস্যার মতো জটিলতা তৈরি করে। অগ্ন্যাশয়ে পাথর হওয়ার পেছনের কারণ এবং লক্ষণগুলো আমাদের জানা থাকলে সহজেই প্রতিকার করা সম্ভব।

মূল কারণ :

দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস : অগ্ন্যাশয়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হলে পাথর তৈরির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

অ্যালকোহল গ্রহণ : অতিরিক্ত মদ্যপান অগ্ন্যাশয়ের নালিতে এনজাইম জমতে সাহায্য করে।

পিত্তথলির পাথর : পিত্তথলির পাথর অনেক সময় সাধারণ পিত্তনালি থেকে নেমে অগ্ন্যাশয়ের নালিতে আটকে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

বংশগত কারণ : কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও এটি হতে পারে।

প্রধান লক্ষণ

পেটের ওপরের মাঝখানে বা পিঠের দিকে তীব্র ব্যথা। বমি ভাব বা বমি হওয়া। খাবার হজমে সমস্যা ও চর্বিযুক্ত মল (Greasy stools)। কারণ ছাড়া দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া। পিত্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেওয়া। অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিস হওয়া।

চিকিৎসা

অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াসে) পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর উপসর্গ, পাথরের অবস্থান ও জটিলতার ওপর। ছোট ও উপসর্গহীন পাথরের ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হতে পারে। তবে ব্যথা, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা নালিতে বাধা সৃষ্টি করলে এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলাঞ্জিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি (ইআরসিপি) পদ্ধতিতে পাথর অপসারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি (ইএসডব্লিউএল) দিয়ে বড় পাথর ভেঙে পরে বের করা হয়। এসব পদ্ধতিতে সম্ভব না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।