স্বরযন্ত্রযুক্ত প্রথম স্থলচর প্রাণী, ব্যাঙ। পুরুষ ব্যাঙের স্বরথলি থাকে। এগুলো চামড়ার থলি, যা বাতাসে পূর্ণ। কিছু ব্যাঙের ডাক ১ মাইল পর্যন্ত শোনা যায়। সংস্কৃতিতে ব্যাঙ বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। ব্রাদার্স গ্রিমের ‘দ্য ফ্রগ প্রিন্স’ গল্পের মতো লোককথা ও রূপকথায় এদের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় ব্যাঙ ছিল উর্বরতার প্রতীক। অন্যদিকে, ধ্রুপদী যুগে গ্রিক ও রোমানরা ব্যাঙকে উর্বরতা, সম্প্রীতি এবং উচ্ছৃঙ্খলতার সঙ্গে যুক্ত করত। বাস্তুতন্ত্রে ব্যাঙ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে তৎপর, ঠিক তেমনি দৈনন্দিন জীবনে কিছু কৌশল অবলম্বন করে। ব্যাঙ মেরুদণ্ডী প্রাণী হওয়ায়, শরীরের ভেতরে একটি সুগঠিত হাড়ের কাঠামো থাকে। এদের লেজ নেই, তবে লেজের শেষ অংশের হাড়টি ‘ইউরোস্টাইল’ নামে পরিচিত। বৃষ্টির দিন বা রাতে ব্যাঙ ডাকার প্রধান কারণ, সংগম ও বংশবিস্তার। পুরুষ ব্যাঙ মূলত স্ত্রী ব্যাঙকে আকৃষ্ট করতে উচ্চৈঃস্বরে ডাকে। অবাক বিষয়, প্রতিটি প্রজাতির ব্যাঙের ডাক আলাদা, যাতে স্ত্রী ব্যাঙ সঠিক সঙ্গী খুঁজতে পারে। বর্ষাকালে জলাশয়ে পানি বাড়লে, ডিম পাড়ার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। তখন ব্যাঙের ডাক বেশি শোনা যায়। শীতকালে বেঁচে থাকার জন্য ব্যাঙ অভিযোজনের পথে যায়। তখন শীতনিদ্রায় চলে যায়। শীতনিদ্রার সময়কাল ৩ থেকে ১৫০ দিন হতে পারে। তীব্র শীত এবং খাদ্যের দুষ্প্রাপ্যতা থেকে বাঁচতেই এই কৌশল। বসন্তকালের শুরুতে তাপমাত্রা বাড়লে এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে শীতনিদ্রা ভাঙে।
উর্বরতার প্রতীক ‘ব্যাঙ’
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ এএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ এএম
দেশ রূপান্তর
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০