নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একই দিনে পৃথক এলাকায় দুই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় একজন গলায় ফাঁস দিয়ে এবং অপরজন কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনাই পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বড় বিনাইরচর এলাকায় দুই সন্তানের জননী আমেনা আক্তার মায়া (৪০)-এর মরদেহ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। তিনি আসলাম হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কাইমপুর (জোয়ার হামছাদী) এলাকায় মালয়েশিয়া ফেরত যুবক মজিবুর রহমান (২৮) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে দেশে ফেরেন।
পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৬ জুলাই তিনি কীটনাশক পান করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, আমেনা আক্তার মায়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মজিবুর রহমানের মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।