ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে স্পেন। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্পেনের এই সাফল্য ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের পক্ষে দেশটির প্রকাশ্য ও নীতিগত অবস্থান।
ইসলামি সিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে দেশটি। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় স্পেনের এই অবস্থান মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে স্পেন একের পর এক ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য মুসলিম সমর্থক তাদের প্রতি সমর্থন জানান। অনেকের কাছে স্পেনকে সমর্থন করা শুধু একটি ফুটবল দলকে সমর্থন করার বিষয় ছিল না। বরং ফিলিস্তিনের অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে কথা বলা একটি দেশের প্রতি সম্মান ও সংহতি প্রকাশেরও প্রতীক ছিল।
এদিকে নরওয়েও ফুটবলের মাধ্যমে মানবিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচের আগে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা দেয়, ম্যাচ থেকে অর্জিত মুনাফা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’-এর মাধ্যমে গাজার মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের প্রতি তারা নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, স্পেন ও নরওয়ের এই পদক্ষেপ দেখিয়েছে, একটি দেশের সরকার কিংবা ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান নিজেদের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে একত্রিত করা। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলো এটিও মনে করিয়ে দেয়, একটি দেশ কেবল মাঠের সাফল্যের জন্য নয়, বরং তার নৈতিক অবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের কারণেও বিশ্বজুড়ে সম্মান অর্জন করতে পারে।