বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে স্পেন। বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। তবে ফিলিস্তিনে এই উদযাপনের ছিল ভিন্ন এক তাৎপর্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে শুরু করে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে স্পেনের পতাকা হাতে আনন্দ মিছিলে নামেন হাজারো ফিলিস্তিনি।
তাদের ভাষায়, এটি এমন এক দেশের বিজয়, যে দেশ কঠিন সময়ে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।
স্পেন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার বিভিন্ন এলাকায় উল্লাসে ফেটে পড়েন মানুষ। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বিদ্যুৎ সংকট ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছিল। শেষ বাঁশি বাজতেই সেই দর্শক সমাবেশ রূপ নেয় স্বতঃস্ফূর্ত বিজয় উৎসবে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অনেক পরিবার এখনো ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁবুতে বসবাস করছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখা প্রায় অসম্ভব। তাই ক্যাফে ও উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনই ছিল মানুষের ভরসা। ম্যাচ শেষে শিশু, তরুণ ও বয়স্করা করতালি, স্লোগান এবং স্পেনের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। তিনি স্পেনের এই সাফল্যকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফল বলে অভিহিত করেন।
হামাসও স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতা বাসেম নাঈম বলেন, স্পেনের প্রাপ্য এই বিজয়ে তারা আনন্দিত। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন এবং তাদের সমর্থকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার রাস্তায় স্পেনের পতাকা হাতে মানুষ উল্লাস করছেন। অনেকেই লিখেছেন, গাজা কখনো তাদের বন্ধুদের ভুলে যায় না। যারা সংকটের সময়ে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সাফল্যেও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের আনন্দ খুঁজে পেয়েছে।
পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেবরন ও নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরেও বিজয় মিছিল বের হয়। ফিলিস্তিনি ও স্প্যানিশ পতাকা হাতে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় শিল্পী ও কার্টুনিস্টরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিভিন্ন চিত্র প্রকাশ করেন। এসব চিত্রে স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরার প্রতীকী বার্তা ফুটে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থান ফিলিস্তিনিদের এই প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ। গাজায় ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ফিলিস্তিনের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থনের কারণে দেশটি ফিলিস্তিনিদের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি