রিজিকে বরকত লাভের উপায়

রিজিক মানুষের জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। জীবনের প্রতিটি প্রয়োজন, স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মানুষ শুধু বেশি আয়ই চায় না, বরং সেই আয়ে বরকতও প্রত্যাশা করে। অনেক সময় দেখা যায়, উপার্জন বেশি হলেও তাতে শান্তি বা কল্যাণ থাকে না। আবার অল্প আয়েও কেউ কেউ সুখে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটায়। ইসলামের দৃষ্টিতে বরকতই এই পার্থক্যের মূল কারণ। কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের এমন কিছু আমলের শিক্ষা দিয়েছে, যা মহান আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হয় এবং রিজিকে প্রশস্ততা ও বরকত এনে দেয়। এসব আমল মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জীবনের কল্যাণ নিশ্চিতে সহায়তা করে। রিজিকে বরকত লাভের কয়েকটি উপায় উল্লেখ করা হলো।

তওবা-ইস্তিগফার : তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দার রিজিকে বরকত হয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করবেন, তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান করবেন।’ (সুরা নুহ ১০-১২)

তাকওয়া অবলম্বন : যেসব আমলে রিজিকে বরকত হয় সেগুলোর মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করা অন্যতম। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না।’ (সুরা সাদ ৩৫)

হজ-ওমরাহ পালন : হজ ও ওমরাহ পালন করার দ্বারা রিজিকে বরকত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা লাগাতার হজ ও ওমরাহ পালন করতে থাকো। কারণ এর দ্বারা এমনভাবে অভাব ও গুনাহ দূরীভূত হয়; যেমনভাবে কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়।’ (জামে তিরমিজি)

সময়মতো নামাজ আদায় : সময়মতো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে রিজিকে বরকত হয়। নামাজ আদায় করার ফাঁকে ফাঁকে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করার ফাঁকে ফাঁকে নামাজ নয়। একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত পালনে নিজেকে ঝামেলামুক্ত করতে হবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি পরিবার-পরিজনকে নামাজ আদায়ের আদেশ দিন এবং নিজেও তার ওপর অটল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই আপনাকে রিজিক দিই। আর মুত্তাকিদের জন্যই শুভ পরিণাম।’ (সুরা তাহা ১৩২)

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম আমল আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করতে এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি)

দান-সদকা করা : দান-সদকা করার মাধ্যমে রিজিক বাড়ে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো; তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা ৩৯) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করে। তাদের একজন বলে, হে আল্লাহ! দানকারীকে তার দানের জন্য উত্তম প্রতিদান দিন। অন্যজন বলে, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।’ (সহিহ বুখারি)

বিয়ে : মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। কারণ আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নুর ৩২)

লেখক : ইসলামি গবেষক