গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধরনামঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে সেখানেই ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারী নেতারা। সোমবার পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। তারা জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবেন।
গতকালের এই বর্বরোচিত পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও; দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে হায়দরাবাদে জোড়া প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে একাধিক ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হিংস্র বলপ্রয়োগ করেছে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ এক বার্তায় তিনি জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে মারাত্মক আঘাত পেয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এক তরুণী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
আবার ধরনামঞ্চে এসে অভিজিৎ দীপকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক তারা দিচ্ছেন না। কারণ, তাতে পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হবে। পুলিশ আবার শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করবে। তাদের বদনাম করবে। সে সুযোগ পুলিশকে তারা দেবেন না।
অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্ধত।
এদিকে সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা। একই দিনে আন্দোলনের দাবিদাওয়া নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর একটি প্রতিনিধিদলও তার সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নাড্ডা আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তবে কর্ণাটকের বিজেপি নেতা কে সুধাকর গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে যেমন ঘটেছে, এখানেও তেমনই একটা ঘটানোর চক্রান্ত চলছে। এই আন্দোলন তারই অংশ। তবে সেটা হবে না। কারা ঠিক পথে রয়েছে, কারা ভুল পথে, তা দেশের মানুষ জানে।
এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা তিনটি প্রধান দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। তিনি আরো বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবার আন্দোলনের সমর্থনে ২১ দিনের অনশন পালনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরদিন হাজারো শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
'সংসদ চলো' মিছিলটি শুরুতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল। শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে ফুল তুলে দিয়ে 'গান্ধীগিরি'র নজির গড়েছিলেন। কিন্তু বিকেলে পুলিশ যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চটি ভেঙে দিলে এবং শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোতে চাইলে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতের ইতিহাসের তরুণবিরোধী প্রধানমন্ত্রী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের বিচার দাবি করা শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছ থেকে জবাবের পরিবর্তে লাঠিচার্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।