রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মোটরসাইকেল চুরি করাই তাদের নেশা। চক্রটি মোটরসাইকেল চুরি করার পর সেগুলো ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লায় তাদের নিদিষ্ট সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। পরে তারা সেটাকে কৌশলে বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। গত মাসের একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় তদন্তে নেমে এই চক্রের সন্ধান পায় ভাটারা থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভাটারা থানার পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৪ জুন যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটের পাশে আবু সাঈদ গেটের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি মামলা হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ভাটারা থানায় অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের সূত্র ধরে ২৬ জুন প্রথমে খিলবাড়ীটেক এলাকা থেকে চক্রের সদস্য সোহেলকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
তিনি বলেন, আসামি সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জুন তার সহযোগী মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর পিসি পিয়ার পর্যালোচনা করে পুলিশের চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। এই চোরচক্রের অন্যতম সদস্য রিপনের বিরুদ্ধে ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় চুরিরসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩টি মামলা রয়েছে।
পরে ওই রিপনকে ঘিরে শুরু হয় নতুন অনুসন্ধান। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চোরচক্রের নতুন সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত এজন্টেদের সন্ধান পায়। প্রায় একমাস ধরে চলা এই অভিযানে এখন পর্যন্ত চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রিপনের তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোরচক্রের দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া হাজারীবাগ থেকে চলতি মাসের প্রথমে চোরচক্রের অন্যতম সদস্য আসামি নুরুজ্জামান জামালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার আসামি জামাল ও রিপন ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিক্রি করত। আসামি নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে ময়মনসিংহ জেলার সদর ও ফুলপুর থানা এবং নেত্রকোনা জেলার সদর থানা এলাকা থেকে আরও ১১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাকি আসামিরা হলেন— সায়েদ, রাব্বি, আশিক, সোহাগ ও মারুফ। আসামিদের কাছ থেকে পালসার মোটরসাইকেল ৬টি, ডিসকভার ৩টি, হিরো গ্লামার ১টি, বাজাজ বক্সার ১টি, হোন্ডা ৫টি, টিভিএস স্টাইকার ৩টি, এফজেড ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।