ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল মঙ্গলবার সিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগে গত জুন থেকে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম সিজেপি। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে ও লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ১৮০ জন আহত হন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এত বড় বিক্ষোভ দেখা যায়নি। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
সিজেপি নেতা আশুতোষ রানকা সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। যারা একটি ন্যায্য দাবি নিয়ে এসেছিল, সেই শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থামব না। শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতেই হবে।’ দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, কোনোভাবেই মনোবল হারানো যাবে না এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। মঙ্গলবারও শত শত বিক্ষোভকারীকে দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বৈঠক হলেও, তাদের দাবির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, লোকসভায় বিরোধী দলগুলোও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার দাবি করেছে। সিজেপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় গতকাল লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার একদিন পর কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে। রাহুল গান্ধীকে যখন পুলিশ সদস্যরা ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার নাক থেকে রক্ত বের হতে দেখা গেছে।
তবে আটকের আগে বিক্ষোভের সময় রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন যদি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে আলোচনা না হয়, তবে সংসদের উদ্দেশ্য কী? তিনি বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর কারণে ছাত্রদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত। রাহুল অভিযোগ করে বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে তরুণদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এটি শুধু শিক্ষা খাতের বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তবে আটকের পর রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের সংসদ সদস্য পবন খেরা বলেন, রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে তা পুলিশ আমাদের জানাতে রাজি নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে কৃষকদের বিক্ষোভ
ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মধ্যেই রাস্তায় নেমেছেন ভারতের কৃষকরা। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে’ যোগ দিতে যাওয়ার পথে ফের অবরুদ্ধ হয়েছেন পাঞ্জাবের শত শত কৃষক। গতকাল মঙ্গলবার পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করা এই কৃষক বহরকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু সীমানায় আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। কৃষকরা যাতে দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সিমেন্টের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরের ব্যারিকেড বসিয়ে শম্ভু সীমান্তকে কার্যত এক দুর্গে পরিণত করেছে পুলিশ। প্রতিবাদে শম্ভু সীমান্তকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিবাদ স্থান বানিয়েছেন তারা। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় সরকারের বিরুদ্ধে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাবেশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ এনেছেন কৃষক নেতারা। কৃষক নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ অন্যায়ভাবে পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে, আর পাঞ্জাব সরকার বাধা না দিয়ে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে রয়েছে। তবে পাঞ্জাবের বহর আটকে দেওয়া হলেও, হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।