ভিসা সহজ করার স্কিম বিবেচনায় : বিমসটেক মহাসচিব

বাংলাদেশসহ সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় নাগরিকদের জন্য ভ্রমণের সুবিধা বাড়াতে ‘ভিসা সহজীকরণ স্কিম’ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

গুলশানে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কূটনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা হয়।

ভিসা স্কিমের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে বিমসটেক মহাসচিব বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভ্রমণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সদস্য রাষ্ট্রগুলোয় নাগরিকদের যাতায়ত সহজ করতে এই স্কিমের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্কিমটি চালু করার বিষয়ে ঐকমত্য হতে হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড বিমসটেক-এর (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) সদস্য। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ সংস্থাটির সভাপতি।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আঞ্চলিক জোটটি কৃষি, জ¦ালানি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পর্যটন, বাণিজ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু খাতভিত্তিক পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে।

বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উপদেষ্টারা গত ১৫ ও ১৬ জুলাই ভারতের নয়াদিল্লিতে একত্রিত হয়েছিলেন। নয়াদিল্লির বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে মহাসচিব বলেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সে বিষয়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে এর বেশি বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এ বৈঠকে যোগ দেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে আলাদা বৈঠক করেন। তবে কোনো পক্ষ এ বৈঠকের বিষয়ে কিছু প্রকাশ করেনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিএমসটেক মহাসচিব বলেন, সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মিয়ানমারভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা বন্ধ করতে সেখানকার সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকট বিমসটেকের কর্মসূচিতে নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মহাসচিব বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বিষয় হওয়ার কারণে এ বিষয়টি সংস্থার কর্মসূচিতে নেই। তিনি বলেন, ‘সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে বিমসটেকের এজেন্ডার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এখন পর্যন্ত আমাদের এজেন্ডায় রাজনৈতিক প্রকৃতির বিষয়াদি থাকে না। একই কারণে এই (রোহিঙ্গা) বিষয়টিও নেই।’

মিয়ানমারের রাখাইনের অধিবাসী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রায় ১২ লাখ মানুষ দেশটির সেনা-নিয়ন্ত্রিত সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয়ে রয়েছে। একইভাবে এ সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক সদস্য থাইল্যান্ড ও ভারতেও আশ্রয় নিয়েছে।

বিমসটেক প্রধানত অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে। সংস্থার চার্টার অনুযায়ী কোনো বিষয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হতে হয়।

বিমসটেক অঞ্চলে মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা চালু করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০০৪ সালে একটি কাঠামো চুক্তি সই করে। এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মহাসচিব বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে পণ্যের মানসহ কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের তুলনা বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক বলে মনে করেন ইন্দ্র মণি পা-ে। তিনি বলেন, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এই অঞ্চলের প্রায় ১৮০ কোটি নাগরিকের অভিন্ন আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য একটি গতিশীল ও কার্যকর মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সার্কের সঙ্গে তুলনা শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।