এই সেই গহনা, যার জন্য বিতর্কে জেনডায়া

হলিউডের সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী জেনডায়া অভিনীত 'দ্য ওডিসি' মুক্তি পেয়েছে চলতি সপ্তাহে। সিনেমার প্রচারণায় প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো ইরানি গহনা পরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই মার্কিন তারকা। প্রাচীন ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে সিনেমার প্রচারে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদরা। 

গ্রিক রাজার ঘরে ফেরার দীর্ঘ যাত্রার গল্প নিয়ে নির্মিত 'দ্য ওডিসি' সিনেমায় দেবী এথেনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেনডায়া। সম্প্রতি লন্ডনে সিনেমাটির একটি ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। সেখানে তার কানে দেখা যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দের প্রাচীন ইরানি নিদর্শন থেকে তৈরি একজোড়া দুল। এটি প্রকাশ্যে আসার পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। হলিউড সিনেমার প্রচারে এমন মহামূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ব্যবহারকে ইরানের সাংস্কৃতিক অবদানের 'ছিনতাই' বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

জানা গেছে, বিতর্কিত এই দুল জোড়া লন্ডনের মেফেয়ারভিত্তিক গ্যালারি ও ডিলার 'ব্যারন'-এর। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে গ্লেন স্পিরো নামের আরেক জুয়েলারের কাছ থেকে এগুলো কেনা হয়েছিল। দুলগুলো মূলত ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে উত্তর-পশ্চিম ইরানে আবিষ্কৃত 'জিউইয়ে' গুপ্তধনের অংশ, যা ১৯৪৭ সালে রাখালদের দ্বারা লুট হয়েছিল। ২০১৫ সালের এক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, টিকে থাকা নিদর্শনগুলো ১৯৬০-এর দশকে ইরানের বাইরের প্রাচীন বাজারে বিক্রি হয়ে যায় এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছড়িয়ে আছে। 

ইরানি বংশোদ্ভূত শিল্পকলা ইতিহাসবিদ ও কোর্টোল্ড ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সুসান বাবাই এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সেলিব্রিটিদের যারা সাজান বা ফ্যাশন অনুষঙ্গ পরান, তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক জ্ঞান ও সংবেদনশীলতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এসব গহনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এগুলো কেবল ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে প্রদর্শনের জন্য নয়। এগুলো মানবতা ও বিশ্বের ঐতিহ্য। 

প্রত্নতাত্ত্বিক ও প্রযোজক ড. অ্যানেলিস বেয়ার বলেন, এখানকার প্রধান নৈতিক সমস্যা হলো দুলগুলো লুট করা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে তৈরি। আন্তর্জাতিক সিনেমার লাল গালিচায় জেনডায়ার মতো তারকা এটি প্রদর্শনের ফলে বিষয়টি নতুন করে সবার নজরে এসেছে। 

সমালোচনার জবাবে ব্যারন গ্যালারি জানিয়েছে, দুলগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলো কাউকে পরতে দেওয়ার পেছনে তাদের কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না; বরং প্রাচীন পারস্যের স্বর্ণকারদের অসামান্য শৈল্পিকতাকে উদ্‌যাপন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।