২০৩০ বিশ্বকাপে আরেক মেসির স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসি কত দিন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার শেষ নেই। তবে এর মধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এক নতুন ও রোমাঞ্চকর সমীকরণ ছড়িয়ে পড়েছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মধ্যে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো মেসি

২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসর। কাকতালীয়ভাবে সেই বছরই প্রাপ্তবয়স্ক হবেন থিয়াগো মেসি। ২০৩০ সালের নভেম্বরে তার বয়স হবে ১৮ বছর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার ভক্তরা এই গাণিতিক হিসাবটি নিয়েই মাতোয়ারা।

ভক্তদের একাংশের মতে, ইন্টার মায়ামির যুব অ্যাকাডেমিতে দ্রুত উঠে আসা থিয়াগো যদি আগামী চার বছরে পেশাদার ফুটবলে বড় কোনো লাফ দিতে পারেন, তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এমনকি বাবার সাথে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার কাল্পনিক সুযোগকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অতি-উৎসাহী সমর্থকেরা।

বাবার সাথে থিয়াগো

বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে আলো ছড়াচ্ছেন। বার্সেলোনায় জন্মগ্রহণ করলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার ব্যাপারে নিজের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছেন তিনি, "আমার একমাত্র স্বপ্ন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা এবং বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করা।" 

থিয়াগো মেসি ইন্টার মায়ামি যুব অ্যাকাডেমিতে

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে থিয়াগো খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন, বাবার সাথে একই দলে খেলার সুযোগ পেলে সেটি হবে তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মেসির তিন সন্তান—থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো—তিনজনেই ইন্টার মায়ামির অ্যাকাডেমিতে ফুটবল শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

তবে কিংবদন্তির ছায়াতলে বড় হওয়ার কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন সবাই। আর্জেন্টাইন ফুটবলের পরিবেশ এবং সাধারণ সমর্থকেরা চান না এখনই ১৩ বছরের এক তরুণের কাঁধে মেসিতুল্য কোনো প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ উঠুক।

লিওনেল মেসি যে অনন্য উচ্চতায় ফুটবলকে নিয়ে গেছেন, সেখানে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্যই প্রায় অসম্ভব এক কাজ। তবে শতবর্ষী বিশ্বকাপে আবারও কোনো 'মেসি'কে নীল-সাদা জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা আর্জেন্টাইনদের মনে যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।