এমপি নজরুলকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না

নারী কেলেঙ্কারির জেরে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। দল থেকে বহিষ্কারের পর এমপি পদ থাকা না থাকা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, এমন সময় সামনে এসেছে তার আরেকটি নারীঘটিত ভিডিও। গতকাল বৃহস্পতিবার সমাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একটি ভবনের লিফটের সামনে ও ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে দেখা গেছে এমপি গাজী নজরুলকে। তবে ভিডিওতে থাকা তরুণীর পরিচয় এবং ভবনটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে এমপি নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে জামায়াত। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে দেওয়া চিঠিতে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় দলটি।

অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর গাজী নজরুল সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারবেন কি না এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। দলীয় পরিচয়ে নির্বাচিত একজন এমপি দলচ্যুত হলে তার আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে, নাকি আলাদা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, কেবল দল থেকে বহিষ্কার হলেই এমপি পদ বাতিল হয় না। এক্ষেত্রে স্পিকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করছে সংসদ সচিবালয় ও স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

গাজী নজরুলকে জামায়াতে ইসলাম দল থেকে বহিষ্কার করলেও শুধু এই কারণেই তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এরপর কমিশন শুনানি শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে এবং সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

শ্যামনগরে বিক্ষোভ অব্যাহত : আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থামেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দ্বিতীয় দিনের মতো সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে মো. ফরিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও এমপি পদে বহাল থাকা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। আমরা তার অবিলম্বে পদত্যাগ চাই।

নুরনগর ইউনিয়নের নুরনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে ব্যবসায়ী নেতা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শ্যামনগরের মানুষ আজ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নৈতিক দাবিতে রাজপথে নেমেছে। জনগণের সম্মান রক্ষায় গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। এদিকে কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী বাজারেও একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, দলীয় সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।