ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দিল্লির গ-ি পেরিয়ে মুম্বাইসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির অঙ্গীকার করলেও নিজেদের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা। এর আগে গত বুধবার রাতে বিক্ষোভস্থল যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর ফের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আজ শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আন্দোলন দিন দিন জোরদার হতে থাকায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নতুন সংঘাতের ঘটনায় নয়াদিল্লিতে জারি করা সব নতুন নিষেধাজ্ঞাকেও অমান্য করে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, সিজেপি আজ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অযৌক্তিক বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্র সংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রচার করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানানো এবং জেলা কর্র্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, সিজেপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে সিজেপির প্রতিনিধিরা সরকারের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আলোচনা হতে হবে বিক্ষোভস্থল যন্তর-মন্তর অথবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘মন্ত্রীরা যেহেতু বলেছেন, যেকোনো জায়গায় আলোচনা হতে পারে, তাহলে তারা যন্তর-মন্তরে আসুক অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা হোক। কোথায়, কখন এবং কতক্ষণ আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক।’ এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ তবে সিজেপি এ ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির দাবি, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রশ্নফাঁসের পর অপরাধীদের বিচার করতে পারে, কিন্তু কেন বারবার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, সেই মূল সমস্যার সমাধান সরকারকেই করতে হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যন্তর-মন্তর ও সংসদ মার্গসহ মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। বুধবার রাতে সংসদ মার্গে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরও স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করার পর থেকেই তারা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র থেকে দুই কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত মান্ডি হাউজ মেট্রো স্টেশন এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। টেলিকম শিল্পের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শুরুতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরের দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে এ নির্দেশের মেয়াদ বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়।