চট্টগ্রামের বাজারদর

ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজি ১৮০ থেকে ১৯৫ 

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে সবজির দাম শতকের ঘর পার হয়েছিল আগেই, চলতি সপ্তাহেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। সবজি কেনায় যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুরগির বাজার। বন্যার কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দর ঠেকেছে ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকায়। মাছের বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকা ছাড়া বাকি পণ্যে কোনো স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। অসাধু সিন্ডিকেট ও শিথিল বাজার তদারকিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

গতকাল শুক্রবার নগরীর কাজির দেউড়ি, পাহাড়তলী ও ফইল্লাতলী বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার পরিস্থিতির এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকা পার হয়ে গেছে আগেই, এই সপ্তাহে তা আরও বেড়ে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। টমেটোর কেজি হাঁকা হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। ঝিঙা ও কাঁকরোলের দামও ঠেকেছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। আর সবচেয়ে বেশি লাফিয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এই সপ্তাহে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাশ্রয়ী বলতে শুধু পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

কাজির দেউড়ি বাজারের এক সবজি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে যেখানে পাইকারিতে ১০০ কেজি পণ্য আসত, সেখানে এখন আসছে মাত্র ২০ কেজি। বন্যায় স্থানীয় ফসল নষ্ট হওয়ার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক মাস সময় লাগবে। তবে ফইল্লাতলী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলতাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে কোনো সবজিই ১২০ টাকার নিচে নেই। ১৬০ টাকা কেজিতেও সবজি কিনতে হচ্ছে! এভাবে চলতে থাকলে আমাদের তো ফতুর হয়ে যেতে হবে।

সবজির দাম নিয়ে চরম অসন্তোষের মধ্যেই হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে মুরগির বাজার। বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বেশ কিছু খামারে মুরগির ক্ষতি হওয়ায় এখন বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে গত সপ্তাহে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকায়।

এ ছাড়া সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি কেজিতে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাহাড়তলী বাজারের মুরগি বিক্রেতা জাহিদ হাসান বলেন, আগে জমে থাকা স্টকের কারণে দাম কিছুটা কম ছিল। এখন খামারগুলোতে মুরগির চরম সংকট, তাই কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বৃদ্ধি পাওয়া ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় স্থির রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, রসুন ১৩০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজি ও মুরগির বাজার চড়া থাকলেও মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। বাজারে আকারভেদে ইলিশ কেজিপ্রতি ৮০০ ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজির দেউড়ি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রুস্তম সওদাগর বলেন, ইলিশের দাম সামান্য কমেছে। তবে অন্যান্য মাছের দাম প্রায় আগের মতোই আছে, কেজিতে ১০-২০ টাকার মতো ওঠানামা করছে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই ও কাতল প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, নদীর পাঙাশ ৬৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ টাকা, কোরাল এক থেকে দেড় হাজার টাকা, পাবদা ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল ৭৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, লইট্টা ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা সরবরাহ ঘাটতি ও বন্যার দোহাই দিলেও এটিকে ‘অজুহাত’ মনে করছেন ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন দেশ রুপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের সবজি আসে মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। চট্টগ্রাম ছাড়া সিলেটের কিছু অঞ্চলে বন্যা হয়েছে, কিন্তু উত্তরবঙ্গে তো কোনো বন্যা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে দাম বাড়ানোর জন্য বন্যাকে একটা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাজারে কোনো প্রশাসনিক তদারকি বা মনিটরিং নেই। তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা মনমতো দাম বাড়াচ্ছেন। বাজার মনিটরিং অবিলম্বে জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।