কুমিল্লায় ছেলেকে হত্যা করে পুঁতে রাখেন বাবা-মা

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক আবদুল কাদের (২৫) হত্যাকা-ের লোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ছাগল বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের অভিযোগে নিহতের বাবা-মা ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটন, তার স্ত্রী কাজল বেগম ও ছোট ছেলে রাকিব হোসেন। ফেনীর সহদেবপুর রেলগেট এলাকা থেকে গতকাল বুধবার নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল দুপুরে নাঙ্গলকোট থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওসি আরিফুর রহমান।

এর আগে, গত মঙ্গলবার নিহত আবদুল কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় খালের কচুরিপানা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার লিটনের স্ত্রী কাজল বেগম ও মেয়ে লিজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদে লাশটি আবদুল কাদেরের বলে জানতে পারে পুলিশ।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, গত বৃহস্পতিবার একটি ছাগল বিক্রি করা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাদেরের বাগ্বিত-া ও মারামারি হয়। এর জেরে ওই দিন রাতেই আসামিরা কৌশলে কাদেরকে তার নানার বাড়ি আদ্রা উত্তরপাড়া গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পুকুরপাড়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে তাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন বাবা-মা ও ভাই। পরে লাশটি অটোরিকশায় করে বাড়িতে নিয়ে আসে তারা। এরপর নিজেদের রান্নাঘরে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে সিমেন্টের সø্যাব বসিয়ে দেয়। তারা সেখানে নিয়মিত রান্নাবান্নার কাজ করে আসছিল। কিন্তু তিন দিন পর লাশের দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার আসামিরাসহ পলাতক মামা রিপন লাশটি তোলে এবং নিহতের অটোরিকশায় করে পদুয়ারপাড়-মেরকোটগামী কাঁচা সড়কের পাশের খালের কচুরিপানার নিচে ফেলে যায়। আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশা, রান্নাঘর খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত কোদাল ও সাবল এবং হাত-পা বাঁধার দড়ি জব্দ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলায় রিপন কাজী (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে নিহতের বাবা মিজানুর কাজীসহ পাঁচজন এ হত্যাকা-ে জড়িত বলে জানিয়েছে স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারগোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও অভিযুক্তদের সবার বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে।

নিহতের বোন রাহিমা বেগম বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বাবা ও চাচাতো ভাইয়েরা রিপনের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। নিহতের ভাই রাব্বি কাজী বলেন, পারিবারিক জমিজমা বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হত্যাকা-ের ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী জানান, মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কয়েকজন পথরোধ করে রিপনের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকা-ে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, মনির কাজী, সোহাগ কাজী ও মিজানুর কাজী জড়িত।

পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রিপন কাজীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত