ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে শিক্ষার্থীদের চলমান সিজেপি আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থনে থাকা বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমির সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়েছে। ১০২ ডিগ্রি জ্বর হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।
শাবানা আজমির দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শাবানা জির আজ (২৫ জুলাই) আন্দোলনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোয়াইন ফ্লুর কারণে আপাতত আন্দোলনে শামিল হতে পারছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সিজেপি আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন শাবানা আজমি। চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম দিকের একজন, যিনি প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বহুল আলোচিত ‘চলো সংসদ’ মিছিলে অংশ নেন।সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তিনিও হাঁটেন। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের জন্য অনেকে তাকে প্রশংসা করেন।
গত ২০ জুলাই সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো নাগরিকের সঙ্গে যোগ দেন শাবানা আজমি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন।একটি ছবিতে তাকে প্রবীণ অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চারপাশে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার খবরকে স্বাগত জানান শাবানা। তিনি বলেন, এই আন্দোলন একটি ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’। আন্দোলন নিয়ে যেসব নেতিবাচক অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে শাবানা লেখেন, ‘তরুণ সহকর্মীদের সহায়তায় যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে উঠছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে আমরা এখানে এসেছি।’ তিনি আরো বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দ করা উচিত। তার মতে, দেশের উন্নতির মানদণ্ড হিসেবেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ ছাড়া তিনি তার বাবা, বিখ্যাত কবি কাইফি আজমির একটি কবিতা আবৃত্তির ভিডিওও শেয়ার করেন। শাবানা বলেন, সত্য কথা বলার কারণে মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, তার বাবার কবিতাগুলো সেই বাস্তবতা তুলে ধরে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাবানা আজমি জানান, আন্দোলনের সময় কাঁদানে গ্যাসের কারণে তার হাঁপানির সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি হাঁপানির রোগী। কাঁদানে গ্যাসের কারণে আমার হাঁপানির আক্রমণ হয়েছিল। তবে আমার ইনহেলার সঙ্গে ছিল। তাই এখন আমি ভালো আছি।’ তিনি জানান, তাকে সম্মানের সঙ্গে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর শ্বাস স্বাভাবিক হলে তিনি আবার আন্দোলনস্থলে ফিরে যান। শাবানা বলেন, লাঠিচার্জের শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাদের মনোবল দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীকে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মনোবল সত্যিই নজিরবিহীন। তাদের সবাইকে আমার সালাম।’
আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাবানা বলেন, তিনি যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে। তিনি বলেন, ‘২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা অনশন করছে। তাদের শারীরিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। তারা যে দাবি করছে, তা কোনো খারাপ দাবি নয়।’ শাবানার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কথা শুনুন। তাদের দাবিকে গুরুত্ব দিন। তাদের আশা দিন।’