পেটের মেদ কমাতে ১০ অভ্যাস

ডা. অথই নীলিমা

আইএমও, এনআইসিউ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

পেটের অতিরিক্ত মেদ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও ফ্যাটি লিভারের মতো নানা রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। নিয়মিত নিচের অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে পেটের মেদ কমানো সহজ হতে পারে।

ধীরে ধীরে খাবার খান

খুব দ্রুত খেলে মস্তিষ্ক বুঝে ওঠার আগেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খান। এতে কম ক্যালরিতেই পেট ভরবে।

কোনো বেলার খাবার বাদ দেবেন না

সকালের নাশতা বা অন্য কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে পরে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে। তখন বেশি খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই নিয়মিত ও সময়মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন

বড় প্লেটের বদলে ছোট প্লেট ব্যবহার করুন। এতে অজান্তেই খাবারের পরিমাণ কমে যায়। প্রতিবার প্লেটে যতটুকু প্রয়োজন, শুধু ততটুকুই নিন।

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান

কোমল পানীয়, কেক, বিস্কুট, চিপস, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবারে ক্যালরি বেশি থাকে। এগুলো নিয়মিত খেলে পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে। পরিবর্তে ফল, বাদাম ও ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।

প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান

ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ, শাকসবজি, ফল এবং লাল চাল বা লাল আটার খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে বারবার ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা পেটে চর্বি জমার অন্যতম কারণ। মেডিটেশন, নিয়মিত হাঁটা, বই পড়া বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিলে মানসিক চাপ কমে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি এবং পেটের মেদ জমার ঝুঁকি বাড়ায়।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতার এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে চর্বি কমাতে ভালো ফল পাওয়া যায়। শুধু পেটের ব্যায়াম নয়, পুরো শরীরের ব্যায়ামও জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে হয়। তাই দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং শরীরের বিপাক ক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে।

ধৈর্য ধরুন, নিয়ম মেনে চলুন

পেটের মেদ এক দিনে জমে না, তাই এক দিনে কমবেও না। দ্রুত ওজন কমানোর অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বদলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই তিনটি অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।

মনে রাখবেন শুধু ওজন নয়, কোমরের মাপও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পেটের মেদ কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।