হেপাটাইটিস-বি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ এএম

ডা. মোহাম্মাদ আবদুল্লা আল ফারুক

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

বর্তমান যুগে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের জন্য হেপাটাইটিস-বি আতঙ্কের নাম। এটি এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা লিভার বা যকৃতে সংক্রমণ ঘটায় এবং ধীরে ধীরে মারাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ না থাকায় একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

হেপাটাইটিস-বি

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস (ঐইঠ) দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ, যা মূলত রক্ত, বীর্য এবং শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি লিভারের কোষ ধ্বংস করে ফেলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরোসিস (যকৃতের ক্ষয়) বা লিভার ক্যানসারে পরিণত

হতে পারে।

সংক্রমণের কারণ

          অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

          আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে আসা

          একাধিকবার ব্যবহৃত ইনজেকশন বা সুচ ব্যবহার

          জন্মের সময় মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ

          অসাবধানতাবশত রক্তদানের মাধ্যমে

লক্ষণ

হেপাটাইটিস-বি আক্রান্তদের অনেকেরই শুরুতে কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে কারও কারও মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে

          ক্লান্তি, বমি ভাব

          পেটের ডান দিকে ব্যথা

          চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

          মল ও প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন

প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়

হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। জন্মের পর নবজাতকের জন্য টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এখনো টিকা নেননি, তাদেরও নেওয়া উচিত।

          রক্ত ও রক্তজাত পণ্য ব্যবহারে সতর্কতা

          নিরাপদ যৌন আচরণ

          ইনজেকশন বা সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সাবধানতা

          পার্লার বা সেলুনে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করা

জনসচেতনতাই রক্ষা করতে পারে জীবন

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ৪ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। অধিকাংশই জানতে পারেন না, যতক্ষণ না জটিল আকার ধারণ করে। তাই প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকাদানের মাধ্যমে নীরব ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত