সিজার ডেলিভারি কখন করবেন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

ডা. মাহবুবা আক্তার জাহান

গাইনি ও প্রসুতি বিশেষজ্ঞ সার্জন, লং লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার কলা বাগান, ঢাকা।

সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে একজন হবু মায়ের সঙ্গে পরিবারের সব সদস্যের ভাবনা থাকে সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া নরমাল হবে নাকি সিজারিয়ান। যদি শরীরিক সমস্যা না থাকে তাহলে নরমাল ডেলিভারিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে এমন অনেক পরিস্থিতি চলে আসে যখন মা নরমাল ডেলিভারির প্রেশারটা নিতে পারেন না, তখন সিজারে যেতেই হয়।

কোন পরিস্থিতিতে সিজার করবেন

গর্ভস্থ শিশুর মাথার আয়তন যদি প্রসব রাস্তার চেয়ে বড় হয় তখন সিজার করতে হয়। কারণ যদি এই মুহূর্তে আপনি সিজার না করান তাহলে মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ৯ মাসের সময় বাচ্চার মাথার সাইজ বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন যে সিজারের দরকার হবে কিনা। গর্ভবতী মায়ের প্রসবের রাস্তায় যদি কোনো টিউমার থাকে তাহলে সিজার করানো সবচেয়ে ভালো না হলে মায়ের অনেক কষ্ট, বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। মা মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। অতীতে জরায়ু মুখে বা প্রসব রাস্তায় কোনো সমস্যা হলে সিজার করাই সব থেকে ভালো।

যদি গর্ভবতী মা শারীরিকভাবে একটু দুর্বল থাকেন তাহলে নরমাল ডেলিভারিতে না যাওয়া ভালো। কারণ বাচ্চা প্রসবের সময় যে ব্যথা বা যন্ত্রণা হবে সেটা সহ্য করার শক্তি না

থাকলে সিজার করিয়ে নেওয়া উচিত। শিশু যদি মায়ের পেটে সঠিক অবস্থানে না থাকে তখন অবশ্যই সিজার করতে হবে। এটা আলট্রাসনোগ্রাম করে আগেই জেনে নিতে হবে বাচ্চার অবস্থান। কখনো যদি দেখেন নাভি রজ্জু, যেটাকে আম্বিলিক্যাল কর্ড বলে, সেটি প্রসব পথে বেরিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই সিজার করাবেন। গর্ভবতী মায়ের যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, ডায়াবেটিস থাকে তাহলে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন সিজার করাতে হবে। যদি দেখেন মায়ের প্রসব রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাহলে সিজার করাতে হবে। কারণ মা ও নবজাতকের জন্য কোনো রকম ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। যদি দেখেন ৬ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা হচ্ছে না। তাহলে ধরে নিতে হবে কোনো একটা সমস্যা আছে, স্বাভাবিক পথে বাচ্চা হবে না। দেরি না করে ডাক্তারের পরার্মশ শুনে সিজার করিয়ে ফেলতে হবে।

গর্ভাবস্থার প্রতিটি মুহূর্ত একজন মা ও তার পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত একজন সুস্থ মা ও তার অনাগত সন্তানের জীবনের ভিত্তি। তাই এ সময়টাতে ডাক্তারের কথা খুব ভালো করে মেনে চলা উচিত। মনে রাখবেন, নরমাল ডেলিভারি সবার কাম্য, কিন্তু কিছু কিছু পরিস্থিতিতে নরমাল ডেলিভারি জীবনের জন্য অনেক ঝুঁকির কারণ হয়ে থাকে। আবার অযথা সিজার করতে যাবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত