শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান

রাসায়নিক খাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তবে অতিমাত্রায় আমদানি নির্ভরশীলতা,  শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ¦ালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, উচ্চ শুল্কহারসহ সরকারি সেবা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতাসহ সর্বোপরি লজিস্টিক অবকাঠমোর সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভাবনাময় এ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘রাসায়নিকনির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের অংশগ্রহণকারীরা এমন মতপ্রকাশ করেন। রাজধানীর মতিঝিল ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস আর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রাব্বানী।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া এবং ওষুধের শিল্পের রপ্তানি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টি বহুলাংশেই রাসায়নিক পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সাপ্লাইচেইনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে দেশের শিল্প খাতে ব্যবহৃত রং, রাসায়নিক এবং বিশেষায়িত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল প্রভৃতির আমদানিনির্ভরতা, শুল্ক জটিলতা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা আমাদের সামগ্রিক শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। সেই সঙ্গে দেশের রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা বলে মত প্রকাশ করেন তাসকীন আহমেদ।

বিআইএমের মহাপরিচালক বলেন, সরকারের শিল্প নীতিমালা সংস্কারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তাই রাসায়নিক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নয়নে কি আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন অথবা বিদ্যমান শিল্পনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলেই চলবে, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানানো হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ করে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের একযোগ কাজ করার ওপর তিনি জোরারোপ করেন।     

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ রাসায়ানিক খাতের বাজার ৬-৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা প্রতিবছর ১০-১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ৬.২ বিলিয়ন ডলারের রাসায়ানিক আমদানি করেছে, যার বেশির ভাগই  তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়া খাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এ খাতের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা, উচ্চ শুল্ক হার, অপ্রতুল অবকাঠামো এবং কার্যকর সাপ্লাইচেইনের অভাব অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সংশ্লিষ্ট নীতিমালার যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।  

সেমিনারের নির্ধারিত বক্তৃতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ড. মো. আক্তার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইয়াসমিন নাহার জলি, বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রপ্তানি ও বন্ড) সুরাইয়া সুলতানা, বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ, বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং ডাইস্টার সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. মাজাহারুল ইসলাম সুমন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।