বিজিএপিএমইএ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

বাংলাদেশ প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএপিএমইএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন আগামী ১ আগস্ট। ইতিমধ্যে প্রার্থীর তালিকাও চূড়ান্ত করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। তবে শেষ মুহূর্তে অন্তত তিনজন পদপ্রার্থীকে নিয়ে প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। যারা বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ লঙ্ঘন করে প্রার্থী হয়েছেন।

এ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। সমাধানে সংক্ষুব্ধ পক্ষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। বিষয়টির ওপর আগামীকাল সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

জানা গেছে, বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সংগঠনের বর্তমান পর্ষদের পরিচালক এবং এবিএস কার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল।

এতে বলা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড এমন কিছু প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৮(৪) এবং ১৮(৫) ধারার শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিধিমালার এ ধারাগুলোতে বলা হয়েছে, টানা দুই মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালনের পর অন্তত একটি মেয়াদে বিরতি নিয়ে তবেই পুনরায় নির্বাচন করা যাবে।

অথচ বিপিএএমইএর নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড অন্তত তিনজন প্রার্থীকে বৈধতা দিয়েছে, যারা টানা তিন মেয়াদ ধরেই পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এমন অভিযোগের তালিকার প্রথমে রয়েছেন বর্তমান পর্ষদের  সভাপতি এবং আদজি ট্রিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহরিয়ার। তিনি ২০১৮-২১ এবং ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত দুটি কমিটিতে ছিলেন পরিচালক হিসেবে।

এর পরের ২০২৪-২৬ মেয়াদে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ টানা তিন মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদে থাকার পরও তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মোল্লা এবং সহসভাপতি (অর্থ) সাইফুল ইসলাম সবুজ সর্বশেষ তিন মেয়াদেই পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করছেন।

অথচ এই তিনজনকেই বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে নীতিমালা মানা হয়নি বলেই জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

তবে এসব বিষয়ে অভিযোগকারীরা নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড এবং আপিল বিভাগের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাননি। যে কারণে পরে বিষয়টির সমাধানের জন্য বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগে চিঠি পাঠান সংক্ষুব্ধরা। পরবর্তীতে আপত্তির বিষয়ে গত ২৩ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হলেও পরে তা বাতিল করে আগামীকাল সোমবার সাকালে শুনানি সময় নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী জামিল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিকার চেয়েছি। শুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত আসবে।

একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান সফিউল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাণিজ্য সংগঠন নীতিমালা ২০২৫ মেনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারণ এই নীতিমালা হয়েছে ২০২৫-এর মে মাসে। ফলে নতুন নীতিমালার পূর্ববর্তী সময়ের মেয়াদকালগুলো বিবেচনায় আসবে না। নীতিমালা বাস্তবায়ন কখনো ভূতাপেক্ষ হয় না, যেদিন জারি হয় সেদিন থেকেই কার্যকর হয়। সে হিসেবে চলতি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রার্থিতা নিয়ে কোনো অসুবিধা নেই।

জানা গেছে, বিজিএপিএমইএর সংঘবিধি অনুযায়ী অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০২৬-২৮-এর পরিচালনা পরিষদের ২১ জন নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে একটি সভাপতি এবং সহসভাপতির ৪টি পদ এবং  বাকিগুলো পরিচালক পদ। প্রতিটি পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থী থাকলেও সভাপতি পদে শুধু দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত