সড়কজুড়ে খানাখন্দ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গোপালগঞ্জ পৌরসভার সিংহভাগ সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে প্রায় সব অলিগলির পিচ ও ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব খানাখন্দে পানি জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে চরম দুর্ভোগ আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

স্থানীয়রা জানান, শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ সড়কেরই বর্তমানে বেহাল অবস্থা। বিশেষ করে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুল্লিবাড়ি সড়ক, বরতলা, পোস্ট অফিস মোড়, কাঁচাবাজার থেকে রঘুনাথপুর খেয়াঘাট, লঞ্চঘাট থেকে ইসলামপাড়া, মিয়াবাড়িসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫টি সড়কের অবস্থা একেবারেই করুণ। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা যোবায়ের হোসেন বলেন, ‘রাস্তার যে বেহাল দশা তাতে চলাফেরা করাই দায়। বিশেষ করে স্কুলের বাচ্চাকাচ্চা ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। রিকশা বা গাড়িও এসব রাস্তায় আসতে চায় না। আমরা এর দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’

আরেক পথচারী সৈয়দ আকবর হোসেন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন আর রাস্তা এক হয়ে যায়। গর্ত বোঝা যায় না বলে প্রায়ই গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। দিনের পর দিন এই ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে, কিন্তু পৌরসভার কোনো নজরদারি নেই।’

সড়কের এই চরম দুরবস্থার কথা স্বীকার করে গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ফারিহা তানজিন জানান, পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পৌরসভায় বর্তমানে দুটি প্রকল্প চালু রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো আগামী অর্থবছরের মধ্যে সমাধান করতে পারব বলে আশা করছি।’

এদিকে গোপালগঞ্জ শহরের এই দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। তিনি দ্রুত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমাদের গোপালগঞ্জ একটি অপরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এখানে টেকসই ড্রেনেজ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব ছিল। পৌরসভার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গোপালগঞ্জকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’