দেড় যুগেও চালু হয়নি পানি সরবরাহ প্রকল্প

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেড় যুগ আগে পাঁচটি পাম্প হাউজ ও ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত পৌরবাসী এক ফোঁটা পানিও পাননি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অচল থাকায় কোটি টাকার অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে বাসাবাড়ি, তাঁতশিল্প ও দুগ্ধ খামারে সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরও ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘পৌরসভা অ্যান্ড গ্রোথ সেন্টার ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় যুগ আগে দুই ধাপে শাহজাদপুর পৌর এলাকায় পাঁচটি পাম্প হাউজ এবং প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ এলাকা ও দ্বারিয়াপুর মহল্লায় দুটি পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়। পরে আরও তিনটি পাম্প হাউজ ও বাকি পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পানি সরবরাহের প্রস্তুতি হিসেবে এক হাজার পানির মিটার কেনা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ বাড়িতে মিটার সংযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প চালু না হওয়ায় সেসব মিটার এখন অচলাবস্থায় পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সবকটি পাম্প হাউজে তালা ঝুলছে। ব্যবহারের অভাবে পাম্পে মরিচা ধরেছে এবং ভবনগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ না হওয়ায় পাইপলাইনও অকেজো হয়ে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শাহজাদপুরে তাঁতশিল্প ও দুগ্ধশিল্পের ব্যাপক প্রসারের কারণে আয়রনমুক্ত বিশুদ্ধ পানির চাহিদা অনেক আগে থেকেই ছিল। এ চাহিদা পূরণে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ডেইরি খামার ও বাসাবাড়িতে দ্রুত বেড়েছে সাবমার্সিবল পাম্পের ব্যবহার। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পাম্প হাউজ ও পাইপলাইন সংস্কার করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

পুকুরপাড় দত্তপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও সংগীত শিক্ষক শ্যামল কুমার সাহা বলেন, অনেক বছর আগে তার বাড়িতে পানির মিটার বসানো হলেও আজ পর্যন্ত পাইপলাইনে পানি আসেনি। ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরুয়াপাড়ার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় এখনো পাইপলাইনে পানি পৌঁছায়নি। মিটারের জন্য আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। শাহজাদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ বলেন, পাইপলাইনে ত্রুটি থাকায় কয়েক দফা চেষ্টা করেও প্রকল্পটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পাম্পগুলো নষ্ট হচ্ছে এবং পাইপলাইনেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শাহজাদপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপন মিয়া বলেন, তার যোগদানের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের পর যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পুরনো নথি সংরক্ষিত না থাকায় প্রকল্পের ব্যয় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই।