ত্রিশালে চাহিদার ১০ গুণ মাছ উৎপাদন, যাচ্ছে বিদেশেও

মাছ উৎপাদনে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জনপদে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বছরে প্রায় ৭৭ হাজার টন মাছ উদ্বৃত্ত হচ্ছে এ উপজেলায়। এসব মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, মাছের খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং সরাসরি রপ্তানির সুযোগ না থাকায় প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশালে বছরে মাছ উৎপাদন হয় ৮৫ হাজার ১২২ টন। বিপরীতে স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৮ হাজার ২২০ টন। ফলে বছরে ৭৬ হাজার ৯০২ টন মাছ উদ্বৃত্ত থাকে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ। উপজেলার ২৪ হাজার ৪৯৮টি বেসরকারি পুকুর, ৩৮টি বেসরকারি হ্যাচারি, ১১০টি মৎস্য নার্সারি ও বিস্তীর্ণ জলাশয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ মৎস্য অর্থনীতি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা দুটি বড় মৎস্য আড়তে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ বেচাকেনা হয়। দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাস, শিং, পাবদা, টেংরা, মাগুরসহ বিভিন্ন মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। ভার্গো ও সেভেন ওসান নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মাছ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের মাহাবুব মৎস্য হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী খাইরুল বাসার মাহাবুব বলেন, উন্নতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদনের কারণে ত্রিশালের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাষিরা তার হ্যাচারি থেকে পোনা সংগ্রহ করেন। এতে উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সামসুজ্জামান মাসুম বলেন, মাছ চাষে ত্রিশাল এখন একটি মডেল উপজেলা। মৎস্য বিভাগের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও তদারকির ফলে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এখানকার মাছ সরাসরি এবং পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।