সাংবাদিকের মাথা ও পায়ে হাতুড়িপেটা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থানীয় সাংবাদিক এম বাচ্চু খলিফার মাথা ও পায়ে হাতুড়িপেটা করা হয়েছে। ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তার ওপর হামলা করে। কুয়াকাটা সৈকত হোটেলের সামনের এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিককে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিক বাচ্চু দৈনিক দেশ রূপান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের দিকে সৈকত হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন সাংবাদিক বাচ্চু। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা ও পায়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়। হামলায় অভিযুক্তরা হলেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহীদ সিকদার ওরফে পচা, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বাইজিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ সিকদার । এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয় জনের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহত সাংবাদিক বাচ্চু খলিফা বলেন, গত দুই-তিন বছরে কুয়াকাটায় ছিনতাই, হোটেল দখল, জমি দখলসহ মানুষের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এসব কর্মকা-ের প্রতিবাদে তিনি বিভিন্ন সময় সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে ওই চক্রের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা তার।

ঘটনার বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ রিয়াজ বলেন, তিনি হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, কুয়াকাটায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।