যশোর-খুলনার ভবদহ অঞ্চলে শতাধিক গ্রামবাসী পানিবন্দী

টানা বর্ষণে যশোর-খুলনার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক গ্রাম, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কয়েক হাজার মাছের ঘের ও পুকুর। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভবদহপাড়ের প্রায় এক লাখ মানুষ।এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

রবিবার (২৬ জুলাই) যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রামের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় মানুষ গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রাস্তায় উঠে আসছেন। এতে এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

স্মারকলিপির অভিযোগে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল ভবদহ পরিদর্শনের পর আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদ-নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে।

সংগঠনের দাবি, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রায় দুই বছর ধরে কাজ শুরু হয়নি। খালটি সংস্কার করা গেলে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশন সম্ভব হতো।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হলেও তা এখনও শেষ হয়নি। নদী খননের সময় খুলনার খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ না করা এবং নদীতে জমে থাকা পলি পরিষ্কার না করায় চলতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।

পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির দাবি, খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ এবং সব অস্থায়ী বাঁধ সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, আমাদের গ্রামের ১৫৫টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি ছাড়া বাকি সব বাড়ির উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়।

মণিরামপুর উপজেলার হরিদাশকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপকর মণ্ডল বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে তিনটি গ্রামের অধিকাংশ এলাকা এবং আরও চার-পাঁচটি গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। ভবদহ অঞ্চলের বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু না করলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

এবিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে গতকাল থেকে খর্নিয়া এলাকায় দুটো ভাসমান এস্কেভেটর নামানো হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে পজেটিভ একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।