গৌরীপুর

বাবা ব্রেইন টিউমার ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত, বাধা অর্থসংকট

ময়মনসিংহের গৌরিপুরে দর্জি আবুল হাসিম ব্রেইন টিউমার আর তার বড় ছেলে দিলোয়ার হোসেন লিটন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এক পরিবারে দুই সদস্য কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অর্থাভাবে মিলছে না চিকিৎসাও।

আবুল হাসিম (৭০) ও ছেলে দিলোয়ার হোসেন লিটন (৩৯) বাড়ি উপজেলার ২নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের গাভীশিমুল গ্রামে। 

দিলোয়ার হোসেন লিটন সিএনজি চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে হাঁসিখুশিতে কাটছিলো সুখের সংসার। তেমন সঞ্চয় না থাকলেও ঋণের বোঝা ছিল না। বড় মেয়ে জিনিয়া আফরিন গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে, ছেলে জাহিদ হাসান মাহিম মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে মাহমুদুল হাসান জিহাদের বয়স ৩ বছর।

দিলোয়ার হোসেন লিটনের স্ত্রী জায়েদা আক্তার জানান, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। সেই থেকে চলছে তার চিকিৎসা কার্যক্রম। এ পর্যন্ত সাতটি কেমো দেয়া হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্পদ নেই। ইতোমধ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৭লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও নিজের যা ছিল সব শেষ করে দিয়েছি। এখন সন্তানদের মুখে তিনবেলা খাবার দিব সেইটুকু সামর্থ্যও নেই। চিকিৎসা চালালে আরও ৪-৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।

ছেলেকে বাঁচাতে যখন পুরো পরিবার দিক-বেদিক ছুটছে ঠিক তখনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন দিলোয়ার হোসেন লিটনের বাবা আবুল হাসিম। চলতি মাসের ৭ তারিখে চিকিৎসকরা জানান, ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তিনি। ছেলের ক্যান্সারের পর বাবার ব্রেইনে টিউমার শুনে স্তব্দ হয়ে পড়েন পুরো পরিবার। তিনি এক সময় দর্জি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কর্মের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের গৌরীপুর উপজেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সংগঠনের প্রত্যেক কর্মসূচী পালনে ছিলেন তিনি নিবেদিত কর্মী।

স্ত্রী, তিন কন্যা আর দুই ছেলে নিয়ে চলছিল তার সংসার। তিন মেয়েই বিবাহিত। ছোট ছেলে সাখাওয়াত হোসেনও বাবার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বাবা আর ভাইয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন যাবত কাজে যেতে পারছেন না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও ২নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শহীদুল্লাহ জানান, হাসিম ভাই দলের দুঃসময়ে প্রত্যেকটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঙ্গে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার বিএনপির মহাসমাবেশে গিয়েছিল। রাতভর তিনি জেগে দলের পতাকা তৈরি করেছেন। তার হাতে তৈরি হয়েছে দলীয় অসংখ্য পতাকা, সেই মানুষটি আজ অসুস্থ।

তিনি বলেন, বাবা-ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সামর্থ্যনুযায়ী সহযোগিতা করছি। সরকার, বিত্তবান মানবিক মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে বাবা-ছেলের চিকিৎসা কার্যক্রমটা চলবে। অর্থাভাবে যেনো চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে যায়, সেই জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানার তিনি।