গভীর রাতে যমুনায় বিলীন স্কুল ও ১২ বাড়ি

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গত শনিবার গভীর রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আরও শতাধিক বসতবাড়ি। ফলে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানায়, জোতপাড়া গ্রামের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনশেড ভবনের একাংশ যমুনা নদীতে ধসে পড়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের ধসে পড়া অংশ নদীর পানিতে ঝুলে পড়ে আছে। এ ছাড়া একটি বসতবাড়ির টিনের ঘরের বেশ কিছু অংশ যমুনা নদীতে পড়ে ভাসছে। এ ভাঙন ঠেকাতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার সকালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করা শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জোতপাড়া গ্রামের মো. রবিউল মোল্লা জানান, গত শনিবার গভীর রাতে মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ভয়াবহ এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১২টি বসতবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে পড়েছে আশপাশ এলাকার শত শত অসহায় মানুষ। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে এই ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। স্থায়ীভাবে এ ভাঙনরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই নদীভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনা নদীর ভাঙনে শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু স্থায়ীভাবে এ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এবার তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, আগে থেকেই ওই এলাকার ভাঙনরোধে বস্তা ফেলার কাজ চলছিল। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় রবিবার সকাল থেকেই ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ হাজার জিও টেক্স ব্যাগ ও টিউব ফেলা শুরু হয়েছে। এ ভাঙনরোধ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ চলবে।