লিবিয়ার রাজধানীতে অসহযোগ আন্দোলন

দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিচারের দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার অস্থিরতা ও দুর্বিষহ জীবনযাত্রার প্রতিবাদে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় মূলত তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন। রাজধানীর সুক আল-জুমা এলাকার লিবিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা ভবনটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবাহর সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। 

আরেকটি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মাটির বাঁধ দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সুক আল-জুমা আন্দোলন ঘোষণা দেয়, তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোম্পানিগুলো বন্ধ করে দিয়ে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবে।

এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীরা জানায়, তাদের উদ্দেশ্য জনগণের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করা নয়; বরং পুরো সরকারকে কার্যত অচল করে দেওয়া। তারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সব ব্যক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমান সরকার, প্রতিনিধি পরিষদ, স্টেট কাউন্সিল এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল—সব রাজনৈতিক কাঠামো বিলুপ্ত করার দাবি জানায়।

ত্রিপোলির আরও কয়েকটি এলাকা, যেমন তাজুরা ও জানজুরও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার গভীর রাতে পশ্চিম ত্রিপোলি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার প্রতিবাদে তারা সড়কে জড়ো হন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বলন্ত টায়ার ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা গুজব কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেওয়া উসকানিমূলক আহ্বানে সাড়া না দিতে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে লিবিয়া বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে অনেক এলাকায় দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গত দুই বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চলতি বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আবারও লোডশেডিং শুরু করেছে বিদ্যুৎ কোম্পানি।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভক্তি নিয়েও জনঅসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষমতা হাফতার পরিবার ও দবেইবাহ পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সম্ভাব্য একটি মার্কিন উদ্যোগের গুঞ্জনও জনমনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।