রাজনীতির কাছে হারলো ইতালির ফুটবল: পিরলো কোচ হতে পারলেন না

রুশ বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির জেরে আন্দ্রেয়া পিরলোর ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড় থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে। এই জলঘোলা পরিস্থিতির কারণে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি।

টানা তিনটি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া ইতালির ফুটবল সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছাল। গত এপ্রিলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই টালমাটাল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

রবিবার রাতে ইতালি ফেডারেশন থেকে পিরলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি আর কোচ হওয়ার দৌড়ে নেই। এরপর সোমবার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পিরলো জানান, 

"প্রতিষ্ঠান, ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এতদিন আমি নীরব ছিলাম। কিন্তু যখন শুনলাম আমি আর প্রার্থী নই, তখন কিছু বিষয় পরিষ্কার করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করছি। পেশাদার ও কোচ হিসেবে আমি সর্বদা সব দেশের আইন ও চুক্তি মেনে কাজ করেছি। রুশ বেটিং এজেন্সির সাথে আমার চুক্তিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজের সূত্র ধরে এবং এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াভিত্তিক। এর সাথে কোনো রাজনৈতিক অর্থ যোগ করা মানে আমার ওপর এমন চিন্তা চাপিয়ে দেওয়া, যা আমার নয়।' তিনি আরো লেখেন, 'আমি পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দোকে তাদের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি তাদের নিষ্ঠা সর্বজনবিদিত। দুঃখের বিষয়, একটি খেলার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দেওয়া হলো। ইতালির প্রতি আমার ভালোবাসা কোনো পদের ওপর নির্ভর করে না; এটি আমার সত্তা ও ইতিহাসের অংশ।'

ইতালির বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ পিরলোর ‘ফনবেট’ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইতালির আন্তর্জাতিক অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একজন রুশ প্রতিষ্ঠানের সহযোগীর ইতালির জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা উচিত নয়। যদিও পিরলো স্পষ্ট জানান, তাঁর বর্তমান দল দুবাই ইউনাইটেডের সূত্রে এ চুক্তি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াভিত্তিক।

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে নতুন করে সাজাতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মালদিনি ও বিশেষ উপদেষ্টা লিওনার্দো প্রথমেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা ও কার্লো আনচেলোত্তিকে। তবে দুজনেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর মালদিনির পছন্দ ছিলেন পিরলো। রবার্তো মানচিনি বা আন্তোনিও কোন্তের চেয়ে পিরলোকে বেছে নেওয়ার মূল কারণ ছিল—তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং আক্রমণাত্মক নতুন নিয়মে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে পিরলোর নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে পিরলোকে বাদ দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনি এবং তিনি নিজেই দায়িত্ব ছাড়ার চিন্তা করছেন।

এখন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। জেন্নারো গাত্তুসো বিদায় নেওয়ার পর কোচ পদে নতুন যাদের নাম আলোচনায় আসছে:

  • রবার্তো মানচিনি: যিনি ইতালিকে ইউরো ২০২০ জেতালেও ২০২২ বিশ্বকাপে তুলতে ব্যর্থ হন। সম্প্রতি কাতারের আল-সাদ ক্লাবে ছিলেন।

  • আন্তোনিও কোন্তে: যিনি ইউরো ২০১৬-এ ইতালিকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন এবং সম্প্রতি নাপোলির দায়িত্বে ছিলেন।

  • সিমিওনে ইনজাগি: ইন্টার মিলানের সাবেক এবং বর্তমানে সৌদি লিগে কর্মরত কোচও রয়েছেন তালিকায়।

গত বছর লুসিয়ানো স্পাল্লেত্তি বরখাস্ত হওয়ার পর ক্লদিও রানিয়েরি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় তুলনামূলক অনভিজ্ঞ গাত্তুসোকে আনা হয়েছিল। চার বছরে চার নম্বর কোচের অপেক্ষায় থাকা ইতালিকে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে নেশন্স লিগে বেলজিয়াম, তুরস্ক ও ফ্রান্সের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।