পরকালে ঈসা নবিকে যে প্রশ্ন করা হবে

পরকালে মহান আল্লাহ কয়েকজন নবির সঙ্গে কথা বলবেন। বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন। তাদের অন্যতম হজরত ঈসা (আ.)। পবিত্র কোরআনে সেই হৃদয়স্পর্শী সংলাপ বর্ণিত হয়েছে।

মহান আল্লাহ সুরা মায়েদার ১১৬ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘যখন আল্লাহ বলবেন, হে মারইয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো?’

ঈসা (আ.)-কে অভিযুক্ত করা এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য নয়। কারণ আল্লাহ সবকিছুই জানেন। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। বরং এই প্রশ্ন করা হবে তাদের সামনে, যারা ঈসা (আ.) সম্পর্কে ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করেছিল। যেন সবার সামনে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায় এবং কেউ কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে না পারে।

প্রশ্নের জবাবে ঈসা (আ.) গভীর বিনয় ও আল্লাহভীতির সঙ্গে বলবেন, ‘আপনি পবিত্র। এমন কথা বলা আমার জন্য শোভনীয় নয়, যার কোনো অধিকার আমার নেই। যদি আমি তা বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আপনি জানেন যা আমার অন্তরে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার সত্তায় রয়েছে। নিশ্চয়ই আপনিই সব গায়েব সম্পর্কে সর্বজ্ঞাত।’

এরপর তিনি আরও বলবেন, ‘আমি তাদের কেবল তাই বলেছি, যে নির্দেশ আপনি আমাকে দিয়েছিলেন। আর তা হলো, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমারও রব এবং তোমাদেরও রব। আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম। এরপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন, তখন আপনিই তাদের ওপর পর্যবেক্ষক ছিলেন। আর আপনি সব কিছুরই সাক্ষী।’ (সুরা মায়েদা ১১৭)

ঈসা (আ.)-এর এই উত্তর থেকে স্পষ্ট হয়, সব নবীর দাওয়াত ছিল এক। তারা কখনো নিজেদের ইবাদত করতে বলেননি। তারা সবাই মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকেই আহ্বান করেছেন। ঈসা (আ.)-ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি নিজেকে আল্লাহ দাবি করেননি। তার মাকেও উপাস্য বানাতে বলেননি। বরং মানুষকে এক আল্লাহর আনুগত্যের শিক্ষা দিয়েছেন।

এরপর ঈসা (আ.) বলবেন, ‘আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা মায়েদা ১১৮)

লেখক : ইসলামি গবেষক