কোরআনে বর্ণিত ৭ ফল

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ এএম

ফল মানুষের প্রাকৃতিক খাদ্য। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। জীবনীশক্তির অন্যতম উৎস। কোরআন ফলকে আল্লাহর কুদরত, নেয়ামত এবং মানুষের জন্য চিন্তার উপকরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। একটি ছোট ফলও মানুষকে তার স্রষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই কোরআনে বিভিন্ন ফলের উল্লেখ এসেছে। প্রতিটি ফলের মধ্যেই রয়েছে পুষ্টি, উপকারিতা এবং ইমান জাগানো শিক্ষা।

খেজুর : কোরআনে সবচেয়ে বেশি উল্লিখিত ফল খেজুর। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি তা দিয়ে তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর, আঙুর এবং সব ধরনের ফল।’ (সুরা নাহল ১১)

খেজুর শক্তি ও পুষ্টির চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। হজমে সহায়তা করে। শরীরের দুর্বলতা দূর করতেও উপকারী।

আঙুর : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তা দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙুরের বাগান সৃষ্টি করি। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফল। আর তা থেকেই তোমরা আহার করো।’ (সুরা মুমিনুন ১৯)

আঙুরে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, আঁশ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের কোষকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেয়।

জলপাই : জলপাইকে কোরআনে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের নুর। তার নুরের উপমা একটি তাকের মতোই। তাতে রয়েছে একটি প্রদীপ। প্রদীপটি রয়েছে একটি চিমনির মধ্যে। চিমনিটি উজ্জ্বল তারকার মতোই। প্রদীপটি বরকতময় জলপাই গাছের তেল দ্বারা জ্বালানো হয়...।’ (সুরা নুর ৩৫)

জলপাই ও জলপাইয়ের তেলে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। শরীরের প্রদাহ কমাতেও কার্যকর।

ডালিম : ডালিমও কোরআনের উল্লেখযোগ্য ফলগুলোর একটি। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি... খেজুর গাছ, শস্য এবং পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ ও ভিন্ন ভিন্ন জলপাই ও ডালিম সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আনআম ১৪১)

ডালিমে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আঁশ এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রক্তস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

ডুমুর : ডুমুর এমন একটি ফল, যার নামে আল্লাহ শপথ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শপথ ডুমুর ও জলপাইয়ের।’ (সুরা তিন ১)

ডুমুরে রয়েছে আঁশ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এটি হজমে সহায়তা করে। হাড়ের সুস্থতায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কলা : জান্নাতের নেয়ামতের বর্ণনায় কোরআনে কলার উল্লেখ এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর থাকবে কাঁদি ভরা কলাগাছ।’ (সুরা ওয়াকিয়া ২৯)

কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি এবং খাদ্যআঁশ। এটি শরীরে শক্তি জোগায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পেশির কার্যকারিতাও উন্নত রাখে।

বরই : মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বরই বৃক্ষের নিচে।’ (সুরা ওয়াকিয়া ২৮)

বরই অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন। আয়াতগুলোর মূল উদ্দেশ্য ফলের বর্ণনা নয়, বরং জান্নাতের অফুরন্ত শান্তি ও প্রাচুর্যের চিত্র তুলে ধরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত