মামদানির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর বাগ্যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে মামদানিকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেছেন তিনি। ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস উইথ মারিয়া বার্টিরোমো’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, তার (মামদানি) তো নিউ ইয়র্কের সব নাগরিক ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম সবার মেয়র হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এক গোষ্ঠীকে আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আমি ইহুদি-আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলি, তারা এখন ভীত। তিনি আরও বলেন, আমি জাতিসংঘের মঞ্চে গিয়ে সত্য তুলে ধরব। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে কথা বলব।

নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে আইসিসির যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলো ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। তিনি আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন আচরণের অনিয়মের অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরানোর একটি চেষ্টামাত্র। উগ্র ইহুদিবাদী নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করে বলেন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি অতীতে যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন ছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মামদানির রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত প্রগতিশীল এবং উগ্র-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটদের বিভাজনের কারণে। নেতানিয়াহুর মন্তব্যের বিষয়ে জোহরান মামদানির কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও, তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর নির্দেশে গাজায় পরিচালিত নৃশংস হামলায় ২০ হাজারের বেশি শিশুসহ প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক।

জোহরান মামদানি এর আগে বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ইসরায়েলের সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি মামদানির সমর্থন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি মহলের সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তারা মামদানির এই অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে মামদানি বলেছিলেন নিউ ইয়র্ক নগরের হাতে বিশ্বের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা না থাকলেও, তিনি বিষয়টি কার্যকর করতে ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ইহুদিদের মধ্যে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা মামদানির চেয়েও কম।

গত জুন মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ, যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি ইহুদি নাগরিকের ওপর চালানো এক জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদি মামদানিকে ‘কিছুটা’ বা ‘খুবই’ ইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ তাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। আর প্রায় ২০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনো মতামত নেই। বিপরীতে মাত্র এক-

তৃতীয়াংশ ইহুদি নাগরিক নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। প্রায় ৬০ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ তাকে ‘খুবই নেতিবাচকভাবে’ মূল্যায়ন করেছেন। আর প্রায় ১০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনো মতামত নেই।