কূটনীতির জন্য হামলা বন্ধ : ট্রাম্প

টানা দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর দেশটিতে হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায় মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ বাতিল করে দিয়ে ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে।’ জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আলোচনার সুযোগ তৈরিতে প্রেসিডেন্ট একটু সময় ও সুযোগ দিচ্ছেন। ইরানি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, তেহরানও এই অঞ্চলে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রেখেছে।

হামলা স্থগিতের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন ‘একটি সামরিক পথ আছে, যেভাবে আমরা এগোচ্ছি, সেভাবেই চালিয়ে যেতে পারি। এমনকি আমরা হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারি এবং এতে তাদের (ইরানের) যা কিছু আছে, সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অথবা আরও বিচক্ষণ একটি কৌশল আছেসেটি হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। আর তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়।’ এ বিষয়ে অবগত আছেনএমন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মনে করেন, প্যাট্রিয়ট এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের সীমিত মজুদ দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের দাবি অস্ত্রের সংকট নয়, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, এই অভিযান কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে রয়েছে। তবে ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে এনবিসিকে ওয়াল্টজ বলেন, প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ আর্কেমিনিয়া জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছিলাম। যেহেতু শত্রুপক্ষ হামলা বন্ধ করেছে, তাই আমরাও পাল্টা হামলার অভিযান স্থগিত করেছি।’ ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে হতাহতের হিসাব নিয়ে সমালোচনার মুখে রবিবার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে হামলায় নিহত ৪ সেনার তথ্যও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিসিএএস)- এ গত ৭ জুলাই থেকে নিহত ও আহতদের জন্য ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি শ্রেণিও যুক্ত করা হয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সর্বশেষ হিসাব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন; গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৮২।

গত সপ্তাহে ইরানের হামলা সত্ত্বেও ডিসিএএসে নিহত ও আহতের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেন্টাগনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন। সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও, রবিবার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।