২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের যে লক্ষ্য রয়েছে, সেটি অর্জনে সরকারের পরিকল্পনা কী?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : হেপাটাইটিস বি-এর ক্ষেত্রে আমরা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ভ্যাকসিন দিচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে মা থেকে শিশুর শরীরে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এই সংক্রমণ প্রতিরোধে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাভির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে।
গ্যাভি যদি প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ করে, তাহলে নবজাতকের জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, সময়মতো টিকা দেওয়া হলে শিশুকে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। চলতি বছরের শেষ দিকে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।
হেপাটাইটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : হেপাটাইটিস বি ও সি দুটিই সংক্রমণের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিকার এবং প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক সচেতনতার দরকার। হেপাটাইটিস কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, বিশেষ করে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুচ বা অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে ।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে কি?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : দেশে প্রায় ২৩ বছর ধরে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেওয়া হচ্ছে। অনেক মানুষ এরই মধ্যে টিকার আওতায় এসেছে। এর বাইরে এমন জনগোষ্ঠী রয়েছে, বিশেষ করে বয়সে যারা বড়, তাদের অনেকেই হয়তো হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেননি। এ ছাড়া যারা মাদক ব্যবহার, রক্ত গ্রহণ বা বিভিন্ন কারণে ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে টিকার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হেপাটাইটিস নির্মূলে সরকারের অগ্রাধিকারগুলো কী?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : প্রথমত, হেপাটাইটিস বি-এর টিকা আরও কার্যকরভাবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, মা থেকে শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে টিকা দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করা। তৃতীয়ত, যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা পাননি, বয়স্ক জনগোষ্ঠী, তাদের টিকার আওতায় আনা। এর পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি ও সি কীভাবে ছড়ায়, সেই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে। হেপাটাইটিস এ-এর ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি নিশ্চিত এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : আমাদের দেশে এখনো সব শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে হয় না। অনেক শিশুর জন্ম বাড়িতেও হয়। ফলে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা বড় চ্যালেঞ্জ। কীভাবে বাড়িতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও সময়মতো টিকা দেওয়া যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সেভাবেই পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব?
ডা. ফোয়ারা তাসমিম : ২০৩০ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। তবে এর জন্য হেপাটোলজি সোসাইটি, গাইনোকলজি সোসাইটি, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে বাংলাদেশ একটি কার্যকর পর্যায়ে যেতে পারবে।