পরকীয়ার সমাধান খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে নারী

স্বামীর পরকীয়ার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তান্ত্রিক প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়েন এক নারী। ফেসবুকে পরিচিত হওয়া ওই চক্রটি সমস্যার সমাধানের নামে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ২১ হাজার টাকা। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী সালমা আক্তার গত বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত থানায় সাইবার আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার অহিদ মিয়া ও হাসান আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের স্পেশালাইজড ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও পারিবারিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালাত চক্রটি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।

ওই নারীর বরাত দিয়ে শিবলী নোমান বলেন, সালমা আক্তার ফেসবুকে ‘রহমত আলী কবিরাজ’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে কথিত এক তান্ত্রিকের সঙ্গে পরিচিত হন। স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক দূর করার কথা বলে দুই ধাপে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর জিনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাকে ‘পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট’ ও রসালো মিষ্টি কিনে ইমো প্ল্যাটফর্মে ভিডিওকলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে বলা হয়। এতে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তার হাতের তালুতে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষত সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও অর্থ নিয়ে ২১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি। গত শুক্রবার কুমিল্লার চান্দিনা থেকে অহিদ মিয়া ওরফে কুয়েত ও মাহে আলম এবং নোয়াখালীর সুধারাম থেকে হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, চক্রটি ‘রহমত আলী কবিরাজ’, ‘হোসেন কবিরাজ’, ‘আসমা কবিরাজ’সহ বিভিন্ন নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ইমো অ্যাকাউন্ট খুলে বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করত।